বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অনুমতি নিয়ে এয়ারলাইনসগুলো পরিচালিত হয়। বেবিচক সব এয়ারলাইনসের বিভিন্ন রুটের ভাড়া অনুমোদন করে থাকে। কেন বেবিচক অস্বাভাবিক ভাড়া নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিচ্ছে না এবং ফ্লাইট সক্ষমতা ও অতিরিক্ত ফ্লাইটের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না, সেটা এক বড় রহস্য। অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও এর ফলে জনগণের ক্ষতির দায় বেবিচক কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এয়ার টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও টিকিট সিন্ডিকেট বন্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণে প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ চেয়ে সাধারণ সদস্যদের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করেন আটাবের কয়েকজন সদস্য। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন মঞ্জুর মোর্শেদ মাহবুব।

টিকিটের দাম কমাতে এক বছর ‘ওপেন স্কাই’ (প্রতিটি এয়ারলাইনসকে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ দেওয়া) করার দাবিও জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এখন মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের টিকিটের দাম আকাশচুম্বী। গত বছরের অক্টোবর থেকে এই সংকট শুরু হয়ে চলতি জানুয়ারি পর্যন্ত টিকিটের মূল্য আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে। রিয়াদ, জেদ্দা, মাসকাট ও দুবাই রুটে ইকোনমি ক্লাসের স্বাভাবিক সময়ে একমুখী ভাড়া ছিল ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। এখন সেটা ১ লাখ টাকা থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। এ ছাড়া এত বেশি টাকা দিয়েও এখন টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে দেশি ও বিদেশি বিমান সংস্থাগুলো ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এর ফলে প্রবাসী, শ্রমজীবী, বিদেশগামী যাত্রী, ওমরাহ যাত্রী, রিক্রুটিং এজেন্সি, ট্রাভেল এজেন্সি, ট্যুর অপারেটরসহ সবাই ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। পাশের দেশে এসব রুটে টিকিটের মূল্য ৪০ হাজার টাকার কম। এ ছাড়া একই গন্তব্যের ফিরতি পথের দূরত্ব একই হলেও টিকিটের দাম ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা মাত্র।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, চাহিদার চেয়ে যখন জোগান কমে তখন দাম বাড়ে। বাংলাদেশ থেকে স্বাভাবিক সময়ে সব কটি এয়ারলাইনস যত ফ্লাইট পরিচালনা করত, করোনাভাইরাসের প্রভাবে তা এখন অনেক কম। এখন ফ্লাইটের সংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশ কমেছে। এর ফলে টিকিটের দামও বেড়েছে। এ ছাড়া সৌদি আরব ও দুবাইতে জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। ওমরাহ যাত্রীর যাতায়াতও বেড়েছে।

কোনো কোনো এয়ারলাইনসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে গুটিকয় এজেন্সি এই সুযোগে টিকিট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টিকিটের মূল্য বৃদ্ধি করে অসহায় বিদেশগামী যাত্রীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, কিছু এয়ারলাইনস টিকিট বিক্রি ও বিপণন নীতিতে নাম ছাড়া টিকিট বুকিং বা তা ব্লক রাখার কারণে টিকিটের কৃত্রিম সংকট আরও০ বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে রিজার্ভেশন সিস্টেমে ফ্লাইটে কোনো সিট খালি থাকলেও ব্লক করে রাখার কারণে সেসব টিকিট বিক্রি হয়েছে বলে দেখানো হয়। এদিকে আবার আসন খালি রেখে ছেড়ে যায় এসব ফ্লাইট।

মঞ্জুর মোর্শেদ মাহবুব ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আটাবের সাবেক মহাসচিব আবদুস সালাম আরেফ, সাবেক অর্থ সম্পাদক আবদুল হামিদ, কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মনসুর আলম পারভেজ ও আটাবের সাধারণ সদস্য আনোয়ার হোসেন।

এর আগে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে আটাবের বর্তমান কমিটি। সেখানে মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইটের ভাড়া কমানোসহ সরকারকে চার দফা প্রস্তাব দেন সংগঠনটির সভাপতি মনছুর আহামেদ কালাম।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন