বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তঘেঁষা শাহ আরেফিন টিলার অবস্থান সিলেট সদর উপজেলা থেকে তিন কিলোমিটার দূরে পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নে। লালচে, বাদামি ও আঠালো টিলার মাটি। মাটি খুঁড়লেই মিলে বড় বড় পাথরখণ্ড। এসব পাথর উত্তোলন করতে যেখানে–সেখানে গর্ত আর খোঁড়াখুঁড়িতে টিলার অস্তিত্ব বিলীন হয়েছে অনেক আগেই। টিলা বলতে শুধু নামটিই আছে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করায় একের পর এক গর্তধসে শ্রমিক নিহতের ঘটনা ঘটছিল। সরকারি খাস খতিয়ানের ১৩৭ দশমিক ৫০ একর টিলাভূমির জায়গা এখন প্রায় সমান্তরাল।

default-image

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, টিলায় পাথর তুলতে গিয়ে গর্তধসে শ্রমিক হতাহতের প্রথম ঘটনা ঘটে ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারি। ওই দিন একসঙ্গে ছয়জন শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন। এর পর থেকে ওই এলাকায় শুধু জানুয়ারি মাসেই শ্রমিক হতাহতের ঘটনা বেশি ঘটছে। শুধু শুষ্ককালে গত তিন বছর নিহত হয়েছেন ১৩ জন পাথরশ্রমিক। এ পরিস্থিতি ঠেকাতে ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত টাস্কফোর্সের ৪৩টি অভিযানে ১৬৮টি ‘বোমা মেশিন’ নামের অবৈধ পাথর উত্তোলন যন্ত্র ধ্বংস করা হয়।
দুদকের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, মেসার্স বশির কোম্পানির নামের ইজারাদার মোহাম্মদ আলী শাহ খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো থেকে আরেফিন টিলার ৬১ একর জায়গা ইজারা নেন। কিন্তু ইজারা–বহির্ভূত জায়গাসহ শাহ আরেফিন টিলার ১৩৭ দশমিক ৫০ একর জায়গা থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করেন। ২০০৪ সাল থেকে একটানা ১৪ বছর ইজারাদার ৬২ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫০ ঘনফুট পাথর অবৈধভাবে উত্তোলন করেন। এসব পাথরের বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী মূল্য ২৫২ কোটি ৫৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

মেসার্স বশির কোম্পানির মালিক মোহাম্মদ আলী জায়গাসংক্রান্ত একটি মামলার আসামি হয়ে বর্তমানে কারাগারে। দুদকের মামলার ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কোম্পানিসংশ্লিষ্ট মোহাম্মদ আলীর এক আত্মীয় জানান, মোহাম্মদ আলী ইজারা নেওয়া জায়গা থেকেই পাথর উত্তোলন করেছেন। টিলা এলাকায় পাথর উত্তোলন করেছে সংঘবদ্ধ একটি পাথরখেকো চক্র। ২০১৭ সালে একসঙ্গে ৬ শ্রমিক নিহত হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসনের তদন্তে পাথরখেকোদের নামও প্রকাশ হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, পুরো শাহ আরেফিন টিলা থেকে পাথর লুটপাটে একজন নয়, সংঘবদ্ধ একটি চক্র জড়িত। একতরফা অভিযোগে মামলা করেছে দুদক।

শাহ আরেফিন টিলা ধ্বংস করে পাথর উত্তোলন তৎপরতার বিরুদ্ধে একাধিক সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে প্রথম আলোয়। ২০১৭ সালে ৬ শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনার পর প্রশাসনিক তদন্ত নিয়ে ২০১৭ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ‘৪৭ পাথরখেকো চিহ্নিত, পরোক্ষ ভূমিকায় পুলিশ ও প্রশাসন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন