বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের টানা অবরোধ-হরতালের প্রভাব পড়েছে কক্সবাজারের টেকনাফের নিত্যপণ্যের বাজারে। প্রায় সব পণ্যের দাম বাড়ছে। ফলে কষ্টে দিন কাটছে নিম্ন আয় ও শ্রমজীবী মানুষের।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রশাসনের নজরদারির মধ্যেও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল কমে গেছে। চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ হচ্ছে না। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা ও পাইকারি বাজারে।
পৌরসভার বড় বাজার ও বাসস্টেশন বাজারের কাঁচামালের আড়তদারেরা জানান, আগে প্রতিদিন চট্টগ্রাম, সীতাকুণ্ড ও পটিয়া থেকে কাঁচামাল নিয়ে সাত-আটটি ট্রাক টেকনাফে আসত। এখন সেখানে একটির বেশি ট্রাক আসছে না। কোনো কোনো দিন একটিও আসছে না। এ ছাড়া স্বাভাবিক সময়ে এক ট্রাক কাঁচামাল আনতে খরচ হতো ১২-১৬ হাজার টাকা। অবরোধের কারণে খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২-২৭ হাজার টাকায়। ফলে পণ্যে দাম বেড়ে যাচ্ছে।
বড় বাজার ও বাসস্টেশন বাজার এলাকার খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে জানা যায়, চাল, আলু, পেঁয়াজ, ডাল ও সয়াবিন তেলের দাম পাইকারি ও খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি ১২ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে।
নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। ৯ ফেব্রুয়ারি বড় বাজারে কথা হয় সদর ইউনিয়নে নতুন পল্লানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর মো. আলমগীরের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে কাজের আশায় বসে আছি। ট্রাকভর্তি মালামাল না আসায় কেউ কাজে ডাকে না। ফলে আয়-রোজগারও নেই। এদিকে চাল-তেলের দাম বাড়ছে। এভাবে চললে উপোস থাকতে হবে।’
পৌরসভার পল্লানপাড়ার বাসিন্দা বশির আহমদ বলেন, ‘টানা অবরোধ ও হরতালে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাছ সরবরাহ না হওয়ায় স্থানীয় বাজারে মাছের দাম একটু কম। কিন্তু অন্য সবকিছুর দাম বেড়েছে। সাতজনের সংসারে দৈনিক আড়াই কেজি চাল লাগে। এখন সে জায়গায় কোনোরকমে দুই কেজি চাল কিনে চালাচ্ছি।’
পৌরসভার লেঙ্গুরবিল সড়কের পাইকারি ব্যবসায়ী আবদুল মালেক জানান, চাল মোটা ২৬ থেকে ৩৮, পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৪২, আলু ২০ থেকে ৩০, রসুন ৭৬ থেকে ৯০ ও সয়াবিন তেল (খোলা) ৯৯ থেকে ১১০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এ ছাড়া মসুর ডালে কেজি প্রতি বেড়েছে ৯ টাকা। তিনি আরও জানান, আগে চট্টগ্রাম থেকে একটি ট্রাক টেকনাফ আনতে ভাড়া দিত হতো ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা। এখন ২২-২৫ হাজার টাকা দিলেও ট্রাক আসতে চায় না।
একই বাজারের আড়তদার আবদুর রাজ্জাক বলেন, চট্টগ্রাম থেকে আসা নিত্যপণ্যের ওপর টেকনাফের মানুষ নির্ভরশীল। টানা অবরোধে ঝুঁকি নিয়ে পণ্য পরিবহন করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের দ্বিগুণ খরচ গুনতে হচ্ছে। তবে এভাবে চলতে থাকলে দাম আরও বাড়বে।
জানতে চাইলে ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আবু জার আল জাহিদ ও মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান খন্দকার জানান, শুরু থেকে বিজিবি-পুলিশ পাহারায় যানবাহন চলাচল করছে। পণ্য আনা নেওয়ায় কেউ চাইলে এ সুবিধা নিতে পারে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন