default-image

টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা ৷ ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কার্যসম্পাদনে পেশাগত ও কারিগরি সহায়তা দেবে ওই অধিদপ্তর।
আজ সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
বৈঠক সূত্র জানায়, এ অধিদপ্তরে বিলুপ্ত বিটিটিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয় করা হবে। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ড (বিটিটিবি) বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লি. (বিটিসিএল) এবং বাংলাদেশ সাব মেরিন কেবল কোম্পানি লি. (বিএসসিসিএল) গঠন করা হয়। বিলুপ্ত বিটিটিবির সব সম্পদ, দায় ও জনবল এক চুক্তির মাধ্যমে বিটিসিএলে স্থানান্তর করা হয় এবং বিলুপ্ত বিটিটিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোম্পানিতে ২৪ মাস চাকরি বাধ্যতামূলক করা হয়।
পরবর্তী সময়ে বিসিএস (টেলিকম) ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তারা এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করেন। এ ছাড়া বিসিএস টেলিকম ক্যাডারের ২১ জন কর্মকর্তা অন্য ক্যাডারে আত্তীকরণের নির্দেশ চেয়ে আরও দুটি রিট করেন। এ সমস্যা সমাধানে সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ানকে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের এক পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়।
পরামর্শক কমিটি বিলুপ্ত বিটিটিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরির ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং টেলিযোগাযোগ-সংক্রান্ত সরকারের নীতি প্রণয়নে কারিগরি, বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা প্রদানকল্পে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীনে স্থায়ী কাঠামো হিসেবে টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তর গঠনের প্রস্তাব করে। কমিটির প্রস্তাব এবং আদালতের নির্দেশনার আলোকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২৫৫ টি স্থায়ী পদ এবং সাত হাজার ৫১৯ টি পর্যায়ক্রমে বিলোপযোগ্য পদসহ মোট সাত হাজার ৭৭৪ টি পদের সমন্বয়ে অধিদপ্তর গঠনে সম্মতি জ্ঞাপন করে। বিটিটিবির অনুমোদিত জনবলকাঠামো অনুযায়ী অবশিষ্ট ১১ হাজার ২৫৫ টি পদে কোনো জনবল কর্মরত না থাকায় এসব পদ বিলুপ্ত করা হয়। কিন্তু অর্থ বিভাগে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ অনুবিভাগ মোট পদের সংখ্যা অপরিবর্তিত রেখে স্থায়ী পদ ২৩৮ টি ও পর্যায়ক্রমে বিলোপযোগ্য সাত হাজার ৫৩৬ টি পদের সংখ্যা নির্ধারণ করে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, অধিদপ্তর গঠনের বিষয়টি সাধারণত মন্ত্রিসভায় আসার কথা নয়। কিন্তু ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় এটি মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করেছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, আজকের সভায় সরকারি করপোরেশন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় আইনের খসড়া উত্থাপন করা হলেও তা মন্ত্রিসভা ফেরত পাঠিয়েছে। মন্ত্রিসভা বলেছে, প্রত্যেক করপোরেশনের নিজস্ব আইন আছে। তাই সমন্বয়ের প্রয়োজন আছে কি না, তা যাচাই করতে ছয় মন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন