পরিবেশের ক্ষতিপূরণ হিসেবে রাজধানীর হাজারীবাগের ট্যানারি কারখানার বকেয়া ৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। ওই দিন বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়েছেন চেম্বার বিচারপতি।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে মালিকপক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে গতকাল রোববার চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এ আদেশ দেন।
২ মার্চ হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বকেয়া ওই টাকা দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিশোধ করতে ট্যানারি মালিকদের প্রতি নির্দেশ দেন। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ফিনিশড লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে গতকাল আবেদনটি (লিভ টু আপিল) করা হয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শেখ ফজলে নূর তাপস ও আইনজীবী মোহাম্মদ মেহেদী হাসান চৌধুরী।
পরে মেহেদী হাসান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, হাজারীবাগ থেকে স্থানান্তর না করা পর্যন্ত ওখানে থাকা ট্যানারি কারখানাগুলোকে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা করে দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। আপিল বিভাগ পরে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা দিতে আদেশ দেন। এই আদেশ পুনর্বিবেচনা চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে, যা বিচারাধীন। এ কারণে বকেয়া পরিশোধ করতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত চেয়ে লিভ টু আপিল করা হয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ২৩ জুন হাইকোর্ট এক আদেশে ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প অন্যত্র স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। পরে কয়েক দফা সময় বাড়ানো হয়। এরপরও হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি না সরায় আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে আবেদন করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। গত বছরের ১৬ জুন হাইকোর্ট সাভারে না সরানো পর্যন্ত ১৫৪টি ট্যানারি শিল্পকারখানার মালিকদের প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। এর বিরুদ্ধে ট্যানারি মালিকদের সংগঠন আপিল বিভাগে আবেদন করলে ১৮ জুলাই আপিল বিভাগ পরিবেশদূষণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি না সরানো পর্যন্ত মালিকদের রোজ ১০ হাজার টাকা করে জমা দিতে বলেন।
ক্ষতিপূরণ আদায়ের ওই নির্দেশনা সঠিকভাবে প্রতিপালিত হচ্ছে না জানিয়ে এইচআরপিবির করা আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ২ মার্চ ওই আদেশ দেন।
বেলার এক আবেদনের শুনানি নিয়ে ৬ মার্চ হাইকোর্টের অপর একটি দ্বৈত বেঞ্চ হাজারীবাগে থাকা ট্যানারিগুলো অবিলম্বে বন্ধ করতে নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে আইন অনুসারে এসব ট্যানারির বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়। এই আদেশের বিরুদ্ধে ট্যানারি মালিকপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে, যা ১২ মার্চ খারিজ হয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন