বাংলাদেশ শিশু একাডেমী ঠাকুরগাঁও কার্যালয় গতকাল রোববার সন্ত্রাস ও শিশু হত্যার প্রতিবাদে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। এই কর্মসূচিতে বড়দের পাশাপাশি শিশুদের দেখা গেছে।
বেলা ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের জেলা শিশু একাডেমী কার্যালয়ের সামনের মানববন্ধন কর্মসূচিতে শিশু একাডেমী ঠাকুরগাঁও কার্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির তিন থেকে পাঁচ বছরের শিশু শিক্ষার্থীদের সামনে রেখে অভিভাবকেরা পেছনে দাঁড়িয়ে থাকেন। অথচ শিশুরা এ রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে পরিচিত নয়।
মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনজুর আলম প্রধান, জেলা শিশু কর্মকর্তা জবেদ আলী প্রমুখ।
শিশুদের দিয়ে এ ধরনের মানববন্ধন করানো কতটা সঠিক, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিশুদের রাজনীতিতে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা-ও প্রশ্ন হিসেবে দেখা দিয়েছে।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জাতীয় শিশুনীতি, ২০১১ তে শিশুর সুরক্ষা হিসেবে শিশুদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার, প্রলোভন বা জোরপূর্বক জড়িত করা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, হরতাল-অবরোধের মধ্যে শিশুদের নিয়ে রাস্তায় নামা কোনো যুক্তিতেই ঠিক হয়নি। যে শিশুরা তেমন কিছুই বোঝে না, মানববন্ধনের নামে তাদের সন্ত্রাস-হত্যার মতো কঠিন সব শব্দের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ঠাকুরগাঁও শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, বর্তমানের রাজনৈতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে শিশুদের দিয়ে যেভাবে মানববন্ধন করানো হচ্ছে, তা সত্যিকার অর্থেই উদ্বেগজনক। এ ধরনের মানববন্ধনে অংশগ্রহণের পর শিশুদের মনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিশুর অভিভাবক জানান, তাঁর মেয়ে শিশু একাডেমীর শিশু শ্রেণিতে পড়ে। সকালে তাঁর সন্তানকে নিয়ে একাডেমিতে আসার পর তিনি জানতে পারেন সন্ত্রাস ও শিশু হত্যার প্রতিবাদে অভিভাবকদের এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। শিশুদের শ্রেণিকক্ষে একা ছেড়ে আসতে নিরাপদ মনে না করায় মানববন্ধনে নিয়ে দাঁড়িয়েছেন।
জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা জবেদ আলী বলেন, ‘সন্ত্রাস ও শিশু হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে শিশুদের রাখার কথা ছিল না। কিন্তু কর্মসূচির সময় শ্রেণিকক্ষে শিশুদের দেখভালের লোক না থাকায় অভিভাবকেরা শিশুদের নিয়ে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে যান।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন