ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে দায়ের করা মামলায় জামিন পেয়েছেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান ও ফটোসাংবাদিক সাজিদ হোসেন। গতকাল সোমবার তাঁরা আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিচারক মো. জুলফিকার আলী খান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালত মতিউর রহমানকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকেও অব্যাহতি দেন।
মতিউর রহমান ও সাজিদ হোসেনের পক্ষে জামিনের শুনানি করেন ঠাকুরগাঁওয়ের আইনজীবী আবু বক্কর মোস্তাক আলম ও ঢাকার আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার। তাঁদের সহায়তা করেন মমতাজুর রহমান, আবদুল করিম, ইমরান হোসেন চৌধুরী, আহসান হাবীব, মজিবর রহমান সরকার, জাকারিয়া হোসেন, রাহাত জামিল, জাকিয়া সুলতানাসহ ২৫-৩০ জন। বাদীর আইনজীবী আবু জাফর শামসুদ্দিন জামিনের বিরোধিতা করেননি। তবে তিনি ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিরোধিতা করেন।
গত বছরের ১৩ নভেম্বর স্থানীয় আইনজীবী ইন্দ্রনাথ রায় বাদী হয়ে এ মামলা করেন। ২০০৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর রম্য ম্যাগাজিন ‘আলপিন’-এর একটি কার্টুন এবং ২০১৩ সালের ১১ মার্চ ‘রস+আলো’ ম্যাগাজিনে এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি ভোটকেন্দ্রে হিন্দু নারী ভোটারদের প্রকাশিত ছবির বিষয় উল্লেখ করে মামলা করা হয়। মামলায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সমন জারি করেছিলেন।
গতকাল আদালতে শুনানিকালে আইনজীবী মোস্তাক আলম বলেন, প্রথম আলো একটি জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা। ওই পত্রিকার সম্পাদককে অহেতুক হয়রানি করার জন্য এ মামলা করা হয়েছে। বাদী ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার কথা বললেও কার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে, তা নির্দিষ্টভাবে তুলে ধরেননি।
শুনানি শেষে আইনজীবী মো. শাহাবুদ্দিন প্রথম আলোর সম্পাদকের হাতে একটি কলম তুলে দিয়ে বলেন, ‘আপনি সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে লেখনী চালিয়ে যান, আমরা আপনার সঙ্গে আছি।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন