মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর সদরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় শিশুদের মধ্যে রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। গত ১৫ দিনে (২৭ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি) ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ২৪৪ শিশু আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) মতলব কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছে।
আইসিডিডিআরবির মতলব শাখা সূত্রে জানা গেছে, ওই ১৫ দিনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮৩ জন শিশু এখানে ভর্তি হয়েছে। এ সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি। স্বাভাবিক সময়ে গড়ে প্রতিদিন ভর্তি হয় ৩৫-৪০ জন শিশু। গত বছর এই সময়ে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হতো ৫৮ জন শিশু। এ ছাড়া গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ২০ শিশু। ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে দুই বছরের নিচে ১ হাজার ২৫, দুই বছরের ওপরে ও পাঁচ বছরের নিচে ৭৩, ৫ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে ১৩ জন ও ১৫ বছরের ওপরে ১৩৩ জন। এদের মধ্যে চাঁদপুর সদরের ১৮৮, ফরিদগঞ্জের ১৩৬, হাজীগঞ্জের ৭৫, কচুয়ার ৬১, মতলব উত্তরের ৭০, মতলব দক্ষিণের ৬০, হাইমচরের ৫০ ও শাহরাস্তির ৫০ জন। এ ছাড়া কুমিল্লা সদরের ৭৭, বরুড়ার ১০৪, চান্দিনার ৭৬, লক্ষ্মীপুর সদরের ৫০, রায়পুরের ৭৫ ও রামগঞ্জের ৬২ জন। বাকি শিশুরা কুমিল্লার দাউদকান্দি, মেঘনা, তিতাস, বুড়িচং ও নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলার।
গতকাল আইসিডিডিআরবিতে দেখা যায়, সেখানকার প্রতিটি ওয়ার্ডে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ভিড়। বহির্বিভাগেও বেশ কিছু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। ফরিদগঞ্জের শোভান গ্রামের শিশু মুনতাহারের (সাত মাস) মা আমেনা বেগম বলেন, ‘ঘন ঘন পাতলা পায়খানা ও বমি করায় মেয়েডারে এনো ভর্তি করাইছি। স্যালাইন ও বেবিজিংক খাইতে দিছে। এহন একটু ভালার দিকে।’
আইসিডিডিআরবি মতলব কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসা কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর দাস জানান, শীতে এ রোগের প্রকোপ বেড়েছে। ময়লা খাবার ও দূষিত পানি পানের কারণে শিশুদের রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া দেখা দেয়। আক্রান্ত শূন্য থেকে ছয় মাস বয়সী শিশুদের খাওয়ার স্যালাইন (ওরস্যালাইন) ও মায়ের বুকের দুধ খেতে দেওয়া হচ্ছে। ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের খাওয়ার স্যালাইন, বেবিজিংক ও খাবার হিসেবে সুজি, খিচুড়ি, পাকা কলা, ভাতের মাড়, ডাব, চিড়ার পানি দেওয়া হচ্ছে। এ রোগ এড়াতে মায়েদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং শিশুদের পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। শিশুদের যাতে ঠান্ডা না লাগে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন