যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের একদল চিকিৎসক ১ হাজার ৬০০টি হৃৎপিণ্ডের তথ্য কম্পিউটারে সংরক্ষণ করেছেন। রোগীদের কাছ থেকে সংগৃহীত এসব হৃৎপিণ্ডের ত্রিমাত্রিক ছবি, স্পন্দন ও জিনের বিস্তারিত তথ্য সেখানে রয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, হৃদ্রোগের চিকিৎসায় উন্নয়নের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খবর বিবিসির। 
এত বেশি মানব হৃৎপিণ্ডের তথ্য একসঙ্গে আগে কখনো সংগ্রহ করা হয়নি। যুক্তরাজ্যের হ্যামারস্মিথ হাসপাতালের মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের ক্লিনিক্যাল সায়েন্সেস সেন্টারের বিজ্ঞানীরা ওই হৃৎপিণ্ডগুলোর ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) ভিডিও বিশদভাবে বিশ্লেষণ করে দেখছেন এবং প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবীর কাছ থেকে জিনগত তথ্য সংগ্রহ করছেন।
সংশ্লিষ্ট গবেষক ডেক্ল্যান ও’রিগ্যান বলেন, মানুষের জিন এবং হৃদ্রোগের মধ্যে খুব জটিল সম্পর্ক রয়েছে। এ ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার জন্য তাঁরা চেষ্টা করছেন। কিন্তু হৃৎপিণ্ডের অত্যন্ত স্পষ্ট থ্রিডি ছবি পাওয়ার মাধ্যমে তাঁরা আশা করছেন, হৃদ্রোগের কার্যকারণ সম্পর্কে আরও ভালো করে জানা সম্ভব হবে। এতে করে সঠিক রোগীকে সঠিক সময়ে কার্যকর চিকিৎসা দেওয়া যাবে।
এত বেশি হৃৎপিণ্ডের তথ্য সংরক্ষণের ধারণাটির মূলে ছিল সেগুলোর তুলনা করা এবং হৃৎপিণ্ডের নানা অসুখের সাধারণ কারণগুলো খুঁজে বের করা। ও’রিগ্যান মনে করেন, চিকিৎসাবিদ্যার গবেষণায় এ ধরনের তথ্য সংরক্ষণপদ্ধতি অচিরেই প্রচলিত হয়ে পড়বে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগের অনেক সূক্ষ্ম লক্ষণ ধরা পড়লেও সেগুলো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু এ ধরনের উপসর্গ শনাক্ত করার ব্যাপারে কম্পিউটার অনেক বেশি সংবেদনশীল এবং সফল হয়ে থাকে। ফলে রোগটি জটিল রূপ নেওয়ার আগেই চিকিৎসার মাধ্যমে সারিয়ে তোলার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন