default-image

কাঙ্ক্ষিত কিছু না পাওয়া, বিচ্ছেদ, প্রিয়জন হারানো, অসুস্থ প্রতিযোগিতা, প্রিয় মানুষের অবহেলা ইত্যাদি অনেক কারণেই বিষণ্নতা (ডিপ্রেশন) হতে পারে। প্রাথমিক অবস্থা থেকেই যদি কোনো ব্যক্তি নিজে বা তার কাছের মানুষেরা একটু সচেতন হয় তাহলে এর থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানো অনেকটাই সম্ভব। কেউ ডিপ্রেশনে আছে শুনলেই সবাই একটি কথাই বলে—আগে তো কিছুই বুঝিনি! কিন্তু আসলেই কি তাই? ঘন ঘন মুড সুইং এবং অকারণ উদ্বেগকে বিষণ্নতার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে ধরতে পারি, যেটা খালি চোখে আমরা সবাই দেখতে পাই কিন্তু আমলে নিই না।

বিষণ্নতায় (ডিপ্রেশন) কাউন্সেলিং এবং প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শমতো মেডিসিন অবশ্যই খেতে হবে। তাহলে এর সঙ্গে পুষ্টির সম্পর্ক কতটুকু? এমন না যে নির্দিষ্ট কোনো পুষ্টির অভাবে কেউ বিষণ্ন বোধ করতে পারেন। কিন্তু মডিফাইড ডায়েট চিকিৎসার সময়কে অনেক কমিয়ে নিয়ে আসে—এটা বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত।

আজকে আমরা বিষণ্নতা রোধে বিভিন্ন পুস্টি উপাদান এবং এর উৎস নিয়ে আলোচনা করব—
১.
সেলেনিয়াম: শস্যদানা, বাদাম, সি ফুড, অরগান মিট যেমন কলিজা ইত্যাদি।
২.
ভিটামিন ডি: রোদে থাকার অভ্যাস করতে হবে অন্তত ১৫ মিনিট। এ ছাড়া তৈলাক্ত মাছ, ফর্টিফাইড ডেইরি প্রোডাক্ট—ডিম।

default-image

৩.
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড: কোল্ড ওয়াটার ফিশ যেমন স্যামন, সার্ডিন, টুনা ইত্যাদি। দেশি সোর্স—তিসি (ফ্ল্যাক্স সিড), তিসির তেল, চিয়া সিড ইত্যাদি।
৪.
অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস: ভিটামিন এ, সি, ই–সমৃদ্ধ খাবার-টাটকা শাকসবজি, ফলমূল ইত্যাদি।
৫.
বি-ভিটামিনস: বিশেষ করে ভিটামিন বি-১২ (ডিম, মাংস, মাছ, অয়েস্টার, দুধ) এবং ফলিক অ্যাসিড (সবুজ শাকসবজি, ফল,বাদাম, বিচিজাতীয় খাবার, শস্যকণা, ডেইরি প্রোডাক্ট, সি ফুড)।
৬.
জিংক: শস্যদানা, বিফ, মুরগির মাংস, বাদাম-বিচিজাতীয় খাবার, মিষ্টি কুমড়ার বিচি ইত্যাদি
৭.
প্রোটিন: ট্রিপটোফ্যান নামক একটি প্রোটিন যেটা মাছ-মাংসে পাওয়া যায় আমাদের শরীর সেটা সেরোটোনিন নামক হরমোন তৈরিতে সহায়তা করে। এই হরমোন আমাদের ভালো অনুভব করাতে সহায়তা করে।
৮.
প্রোবায়োটিক: প্রোবায়োটিক যেমন টক দই, কিশমিশ এই খাবারগুলো আমাদের সুস্থ রাখতে সাহায্য করে, যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের খাবার থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান শোষিত হতে সাহায্য করে।
৯.
ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত কম বা বেশি ওজন এর কারণে বিষণ্নতার লক্ষণ দেখা দিতে পারে কারণ উভয় ক্ষেত্রেই বিভিন্ন হরমোনাল এবং ইমিউনোলোজিক্যাল পরিবর্তন দেখা দেয়।

default-image

বিষণ্নতায় কোন খাবারগুলো বাদ দিতে হবে?
অবশ্যই অ্যালকোহল, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও তেল, ট্রান্স ফ্যাট সোডা ও এনার্জি ড্রিংক।
ডায়েটারি মডিফিকেশনের সঙ্গে সঙ্গে লাইফ স্টাইল পরিবর্তনও অনেক জরুরি। প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ২০-৩০ মিনিট হাঁটা (সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট), ভালো ঘুম (দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা), প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটানো, পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে প্রাণ খুলে গল্প করা, প্রার্থনা করা, মেডিটেশন করা ইত্যাদি।

বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন: ক্যাফেইন অর্থাৎ চা, কফি, চকলেট ইত্যাদি খাওয়া যাবে কি না?
পরিমাণমতো খেলে খুব সমস্যা হবে না বরং অনেক সময় মুড ভালো রাখতে সহায়তা করে। কিন্তু কোনোভাবেই বেশি পরিমাণে গ্রহণ করা যাবে না। এতে নার্ভ উত্তেজিত হয়ে অনেক সময় ঘুমের সমস্যা তৈরি হতে পারে।

* পুষ্টিবিদ, এসথেটিক স্কিন ক্লিনিক, পান্থপথ

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন