বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা হায়দার আলী সভায় উপস্থিত থাকার জন্য সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানান। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় সভার শুরুতেই স্থানীয় সরকারমন্ত্রী উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা অনেক খোলামেলা আলোচনা করি। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের উপস্থিতি নিয়ে অনেকের আপত্তি থাকে। দয়া করে আপনারা চলে যান।’ এরপর সাংবাদিকেরা মন্ত্রীকে দুটি প্রশ্ন করে বের হয়ে যান।

২০০৪ সালে ড্যাপ প্রণয়নের কাজ শুরু করে রাজউক। ২০০৬ সালে এটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ হয় ২০০৭ সালে। ২০১০ সালের ২২ জুন ড্যাপ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। এ সময় আবাসন প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা ড্যাপে ভুল আছে বলে বিতর্ক শুরু করেন।

ফলে ড্যাপের গেজেট প্রকাশের ছয় দিনের মাথায় আরেকটি গেজেট প্রকাশ করে আরও বিশদভাবে পর্যালোচনা করে ড্যাপ চূড়ান্ত করার জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে সরকার। এত বছরেও কমিটি ড্যাপ চূড়ান্ত করেনি। কিন্তু এই সময়ে কমিটি একটি একটি করে আবেদন ধরে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করছে।

মন্ত্রিসভা কমিটি ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয় মূলত ড্যাপ সংশোধনের লক্ষ্যে গঠিত কারিগরি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে। আজকের সভাতেও ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন নিয়েই আলোচনা হয়েছে। শ্রেণি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটানোর নানা অভিযোগ রয়েছে। ওই সভা থেকে বের হয়ে আসা একাধিক গণমাধ্যমকর্মী বলেন, ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা জনসম্মুখে না আনতেই সাংবাদিকদের সভায় থাকতে দেওয়া হচ্ছে না।

কবে নাগাদ ড্যাপ চূড়ান্ত হতে পারে, সভায় এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ড্যাপকে চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশের জন্য প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ড্যাপ চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে নগর পরিকল্পনাবিদ, স্থাপত্যবিদ, রিহ্যাব, বিএলডিএসহ বিভিন্ন অংশীজন এবং ড্যাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সভা করা হয়েছে। ড্যাপ পর্যালোচনা করতে মন্ত্রিসভা কমিটির একটি সভা আয়োজন করা হয়েছিল। করোনার কারণে মন্ত্রিসভার সভা আয়োজন করতে না পারলেও বিভিন্ন সময় ছোট করে সভা করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় আবার কাজ শুরু হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরে দুই কোটির বেশি মানুষ বসবাস করে। পৃথিবীর অনেক দেশেও এত জনসংখ্যা নেই। সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া এবং বিধিবহির্ভূতভাবে অনেক অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে। ঢাকায় নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করা হয় না। আবার সরকারি খাল দখল করে বড় ভবন নির্মাণ করা হয়। কোনো অবস্থাতেই এসব আর করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ঢাকাকে আধুনিক, দৃষ্টিনন্দন ও বসবাসের উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য যেসব বিষয় আমলে নেওয়া দরকার, সেগুলো পর্যালোচনা করে ড্যাপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান, রাজউকের ড্যাপ প্রকল্পের পরিচালক আশরাফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন