কামাল জানান, গত বুধবার বানের পানিতে ঘর ডুবে গেলে স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে আশ্রয় নেন স্থানীয় এক ব্যক্তি বাসার ছাদে। সেখানেই কোনোমতে মাথা গুঁজেছেন। কিন্তু খাবারে কোনো ব্যবস্থা হয়নি। যাঁদের বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁরা কিছু চিড়া-মুড়ি দিয়েছিলেন। সেটাও ফুরিয়ে গেছে গত রোববার।

বাম পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলা হয়েছে কামালের। কাটা ঘা থেকে পচন ধরায় চার বছর আগে সেটি কেটে ফেলা হয়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকায় কায়িকশ্রমের কাজ করতে পারেন না তিনি। তাই এক মালিকের ব্যাটারিচালিত রিকশা ভাড়ায় চালিয়ে উপার্জন করতেন কামাল।

প্রথম আলোকে তিনি বলেন, গত ১৪ জুন (মঙ্গলবার) বৃষ্টির সঙ্গে পানি বাড়তে থাকে। ওই দিন বেশি রোজগারও করতে পারেননি। বুধবারে রাতেই পানি আরও বেড়ে তাঁর ঘর ডুবে যায়। সেখানেই ছিল রিকশাটি।

গত ছয় দিন ধরে শুধু শুকনো চিড়া-মুড়ি খাচ্ছেন বলে জানান কামাল। তিনি বলেন, রাতে যখন বাড়ি ছাড়েন তখন সঙ্গে কিছুই নিতে পারেননি। অবশ্য ঘরে বাজার সদাই বেশি কিছু ছিলও না বলে জানালেন।

কামালের ঘরটা ছিল টিনের ছাউনি আর ছনের বেড়ার। গতকাল সোমবার পর্যন্ত তাঁর ঘরের সামনে বুক সমান পানি ছিল বলে জানা গেল। আজ আরও কিছু কমেছে বলে জানালেন।

ছনের বেড়াটি বন্যার পানিতে ভেসে গেছে জানালেন কামাল। ভেসে গেছে বিছানাপত্রও। রিকশাটি আছে। কিন্তু কবে নাগাদ সেটা চার্জ দেওয়া যাবে বা আদৌ চার্জ দেওয়া যাবে কি না সে দুশ্চিন্তাও ভর করেছে। সেই অনিশ্চয়তা নিয়েই কামাল অপেক্ষায় আছেন, কবে পানি কমবে আর কবে আবার রিকশা চালাতে পারবেন।

এক পা না থাকায় নৌকা পাড়ে ভেড়াতে ও যাত্রা শুরু করতে সমস্যা হয় বলে সঙ্গে রেখেছেন ছেলে জামিলকেও। ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র জামালও চিড়া খেয়েই বাবাকে সাহায্য করছেন।

তাঁরা যেখানে নৌকা চালাচ্ছেন, সেখানে পানি অনেক ছিল। গত বুধবার থেকে রোববার পর্যন্ত ওই দিক দিয়ে কিছুই চলেনি। পানি কিছুটা কমার পর গতকাল সোমবার তাঁরা নৌকা নিয়ে উপার্জনে নামেন।

কামাল জানান, ঘর ছাড়ার পর থেকে এখনো ভাত-তরকারি জোটেনি। আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত রোজগার বলতে ১২০ টাকা। গতকালের জমা মিলিয়ে পাঁচজনের মুখে আহার তুলতে এখন পর্যন্ত বাবা-ছেলের সম্বল ১৮০ টাকা।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন