default-image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে হত্যাচেষ্টার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১০ জঙ্গির ডেথরেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আসামিদের করা আপিলের ওপর ১৭ ফেব্রুয়ারি রায়ের তারিখ ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।

শুনানি শেষে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার রায়ের এই তারিখ ঠিক করেন। এর আগে ডেথরেফারেন্স ও আসামির আপিলের ওপর গত বছরের সেপ্টেম্বর শুনানি শুরু হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি  জেনারেল মো. বশির উল্লাহ শুনানি করেন। চার আসামির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহম্মদ আহসান। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত হিসেবে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী অমূল্য কুমার সরকার।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বিচারিক আদালতের দেওয়া রায় ও দণ্ড বহালের আরজি জানানো হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত ১৭ ফেব্রুয়ারি রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছেন। ভাষার মাস বলে বাংলা ভাষায় রায় দেবেন বলেছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

ওই মামলায় ২০১৭ সালের ২০ আগস্ট বিচারিক আদালত রায় দেন। রায়ে ১০ জনকে ‘ফায়ারিং স্কোয়াডে’ (গুলি করে) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে বলা হয়ে। এ ছাড়া ১ জনকে যাবজ্জীবন ও ৩ জনকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই রায়ের পর ডেথ রেফারেন্সের জন্য রায়সহ নথিপত্র ওই বছরের ২৭ আগস্ট হাইকোর্টে পৌঁছায়। পরদিন সংশ্লিষ্ট শাখা এসব ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত করে। শুনানির পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্ত) তৈরি করা হয়। অন্যদিকে রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা তিনটি আপিল ও সাতটি জেল আপিল করেন।

প্রসঙ্গত, ২০০০ সালের ২২ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান সরকারি আদর্শ কলেজমাঠ প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভার প্যান্ডেল তৈরির সময় শক্তিশালী একটি বোমা দেখা যায়। সেনাবাহিনীর একটি দল ৭৬ কেজি ওজনের ওই বোমা উদ্ধার করে। পরদিন ২৩ জুলাই ৪০ কেজি ওজনের আরেকটি বোমা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই কোটালীপাড়া থানার পুলিশ হত্যাচেষ্টা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করে। ২০১০ সালে গোপালগঞ্জ আদালত থেকে মামলা দুটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন ওয়াসিম আখতার ওরফে তারেক হোসেন ওরফে মারফত আলী, রাশেদ ড্রাইভার ওরফে আবুল কালাম ওরফে রাশেদুজ্জামান খান ওরফে শিমন খান, ইউসুফ ওরফে মোসহাব মোড়ল ওরফে আবু মুসা হারুন, শেখ ফরিদ ওরফে মাওলানা শওকত ওসমান, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই ও মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে মুফতি রউফ ওরফে আবদুর রাজ্জাক ওরফে আবু ওমর।

আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন মেহেদী হাসান ওরফে আবদুল ওয়াদুদ। ১৪ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড পেয়েছেন আনিসুল ইসলাম ওরফে আনিস, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ও সরওয়ার হোসেন মিয়া।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন