বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ের সাড়ে আট মাস পর গত ১৪ নভেম্বর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়, শেষ হয় ২৩ নভেম্বর। সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে তিনটি বিষয়ে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বাকি বিষয়গুলোর ফল সমন্বয় করা হয় আগের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে। দীর্ঘদিন পরে পাবলিক পরীক্ষা ও ফল প্রকাশিত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে সাদিয়া আফরিন। সহপাঠীদের সঙ্গে হইহুল্লোড় করছিল সে। সাদিয়া বলে, ‘বড় আপুদের (এইচএসসি) পরীক্ষা ছাড়াই ফল দিয়েছে। পরীক্ষা হবে কি না, এটা আমরাও ভাবিনি। অটো পাস না হয়ে পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছি, এ জন্য বেশি ভালো লাগছে। তিন বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছি, কয়েক বছর পর এটা কেউ মনেও রাখবে না।’

ভিকারুননিসা নূন স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ হাজার ২৭৪ পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে ২ হাজার ২৬৯ জন। অকৃতকার্য হওয়া পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনজন অনুপস্থিত ছিল। বাকি দুজন বিদেশে চলে গেছে বলে পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। আর জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ হাজার ৯২৮ জন। জিপিএ পাওয়ার হার ৮৫ শতাংশ।

default-image

অধ্যক্ষ কামরুন নাহার বলেন, করোনার কারণে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো করেছে। করোনার বন্ধে অনলাইনে ক্লাসও কখনো বন্ধ হয়নি। তিনি জানান, বাণিজ্য বিভাগে পাস করেছে ১৪৪ জন, মানবিকে ৫০ জন, বিজ্ঞান বিভাগে পাস করেছে ২ হাজার ৭৫ শিক্ষার্থী। আর জিপিএ–৫–এর ক্ষেত্রে বাণিজ্য বিভাগে ৫৭ জন, মানবিকে ২০ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগে ১ হাজার ৮৫১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ পেয়েছে।

default-image

ফলাফল পেয়ে আনন্দ উৎসব কেমন হচ্ছে, এমন প্রশ্নে রাহেলা নাবিলা নামের এক শিক্ষার্থী বলে, ‘আমাদের নিষেধ করা হয়েছিল কারোনার কারণে স্কুলে তেমন আনন্দ–উৎসব না করতে। অন্যবারের মতো এবার অত বড় আয়োজনও হয়নি। তবে অনেক দিন পর বন্ধুদের পেয়ে সবাই আনন্দিত।’

শিক্ষার্থীদের ভালো ফলে উচ্ছ্বসিত অভিভাবকেরাও। তেমনই একজন কাবেরী ভট্টাচার্য। তাঁর মেয়ে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ–৫ পেয়েছে। তিনি বলেন, সব কটি বিষয়ে পরীক্ষা হলে আরও ভালো লাগত।

default-image

এবারের এসএসসি পরীক্ষা দিতে শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা তুলে ধরে অধ্যক্ষ কামরুন নাহার বলেন, পরীক্ষা দিতে অনেক শিক্ষার্থীর হাত কেঁপেছে। কারণ, দীর্ঘদিন করোনার কারণে ক্লাস-পরীক্ষা না থাকায় শিক্ষার্থীদের লেখার অভ্যাসটা পরিবর্তন হয়েছে। এর কিছুটা প্রভাবও পরীক্ষার ফলেও পড়েছে। তা না হলে আরও ভালো ফল হতো।

গত বছর ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ভিকারুননিসা স্কুল থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ হাজার ৯৯৭ জন। পাস করে ১ হাজার ৯৯৬ জন। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ হাজার ৬৮২ জন। পাসের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

মাইলস্টোন কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল মোস্তফা কামালউদ্দিন ভূঁইয়া (অব.) কলেজ–সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আগামী দিনে প্রতিটি পরীক্ষায় আরও ভালো করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ডেমরার সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১ হাজার ৩৭২ জন পরীক্ষা দিয়ে সবাই পাস করেছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবার ১ হাজার ৫০ জনে ৮২৭, ব্যবসায় ২২৬ জনে ৭৮ এবং মানবিকে ৯৬ জনে ৩৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের অর্জিত ফলে আমরা ধন্য। আজ আমাদের আনন্দের শেষ নেই।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন