চলমান হরতাল-অবরোধে রাজধানীর বাইরের জেলাগুলোর পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। 
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকায় হয়তো কিছু বোঝা যায় না। কিন্তু ঢাকার বাইরের জেলাগুলোর পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এই জেলাগুলোকে সচল রাখতে হবে।’
সচিবালয়ে গতকাল শনিবার ‘বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রযাত্রা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির অবস্থান’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এই প্রথম সরকারের কেউ একজন বাইরের জেলাগুলোর মারাত্মক পরিস্থিতির কথা বললেন। তবে অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্য নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। প্রথম আলোকে তিনি গতকাল বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী কী বলেছেন সেটা আমি শুনিনি। না শুনে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’
তবে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, দু-একটি স্থানে চোরাগোপ্তা হামলা হচ্ছে। কিন্তু সব স্থানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। যত খারাপ ভাবা হচ্ছে পরিস্থিতি তত খারাপ নয়।
এদিকে, সংবাদ সম্মেলনে জেলাগুলোকে সচল রাখার জন্য অতিরিক্ত র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান আবদুল মুহিত। অতিরিক্ত মোতায়েনের জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ দিতে হবে কি না, জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই দিতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে যে তাদের খরচ বেড়ে গেছে।’ সংস্থাগুলোর চাহিদা কত জানতে চাইলে এখনই তা বলতে চান না বলে তিনি জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, হরতাল-অবরোধে আগে অ্যাম্বুলেন্স, শিক্ষা খাত ইত্যাদি কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ রেহাই দেওয়া হতো। কিন্তু এবার তা হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘নৌকায় বসে আছি। তার দিক পর্যন্ত নির্দেশ করতে পারছি না। তবে মনে করছি, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’
অবশ্য তিন সপ্তাহ আগেও একবার এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী।
পরে প্রশ্নোত্তর পর্বে সহিংস পরিস্থিতির উত্তরণ কবে হবে জিজ্ঞেস করলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ জানে না।’ যে সাংবাদিক এই প্রশ্ন করেছিলেন তাঁকেই পাল্টা প্রশ্ন করেন মুহিত ‘আপনি বলতে পারবেন?’ তিনি বলেন, ‘আগে আমি আশা করেছিলাম এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। আশা আমি করতেই থাকব।’
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মুহিত বলেন, ‘এই গণবিরোধী আন্দোলন যারা করছে, তারা বাংলাদেশের শত্রু। আমি সচেতন ব্যক্তিদের (সেনসিটিভ পারসন) এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।’
দেশ কি এ অবস্থার মধ্য দিয়েই যাবে, বদলাবে না—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এক অদ্ভুত দেশ। প্রায়ই হরতাল-অবরোধ হয়। তার মধ্যেও মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির হার (জিডিপি) থাকছে ৬ শতাংশের ওপরে।’
সন্তোষজনক প্রবৃদ্ধি, আয়বৈষম্য রোধ ও দারিদ্র্য কমাতে পারার ঘটনা সারা দুনিয়া মেনে নিলেও দেশের একশ্রেণির বুদ্ধিজীবী তা মেনে নিতে পারেননি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। তবে কারও নাম উল্লেখ করেননি তিনি।
হরতাল-অবরোধে অর্থনীতির কী ক্ষতি হলো তা আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় সমন্বয় কাউন্সিলের বৈঠকে তুলে ধরবেন বলে মন্ত্রী জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে চাইছেন। তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করা। কিন্তু ওনার সঙ্গে, ওনার সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কর্মসূচির সঙ্গে সাধারণ মানুষ নেই। ওনার কর্মসূচি এখন ফুটো বেলুন। এমনই বেলুন যে, এর ভেতরে কোনো বাতাসই নেই।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন