default-image

ইয়াবা কেনার টাকার জন্য বাস কোম্পানির ব্যবস্থাপক আক্তার হোসেন শিকদারকে (৫৫) খুন করেছেন দুই ছিনতাইকারী। আক্তার হোসেনকে হত্যার দায় স্বীকার করে ঢাকার আদালতে দুজন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। গ্রেপ্তার দুই আসামি হলেন কুমিল্লার সজীব ওরফে ব্রিটিশ সজীব (২৩) এবং মাদারীপুরের সুজন (২৬)।

১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুর লিচুবাগান এলাকায় ভোররাতে খুন হন আক্তার হোসেন। ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসি ক্যামেরা) ফুটেজের সূত্র ধরে খুনের তিন দিনের মাথায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দুজনই বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে জবানবন্দি দেন।
আক্তার হোসেনের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া ১ হাজার ৬০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। আর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরিও জব্দ করেছে পুলিশ।

যেভাবে খুন হন আক্তার

প্রায় ২০ বছর ধরে আক্তার হোসেন শিকদার (৫৫) বাস কোম্পানির ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সর্বশেষ তিনি যাতায়াত পরিবহন কোম্পানির রাজধানীর সায়েদাবাদ কাউন্টারের ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে ছিলেন। কাজের সুবাদে প্রতিদিন ভোরবেলা তিনি কাউন্টারে আসতেন। সেদিনও (১৯ সেপ্টেম্বর) তিনি যাত্রাবাড়ীর ধলপুর এলাকার বাসা থেকে বের হন রাত ৪টা ৩০ মিনিটে। এর ঠিক ১০ মিনিট পর বাসার খুব কাছেই ধলপুর লিচুবাগান জামে মসজিদ গেটের সামনে আক্তার হোসেন খুন হন। স্থানীয় লোকজন তখন তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান এবং চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

আক্তার হোসেন খুনের তদন্ত করতে গিয়ে যাত্রাবাড়ী থানা–পুলিশ প্রথমে সেখানকার সিসি ক্যামেরা খুঁজতে থাকে। ঘটনাস্থলের কোনো সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তবে আশপাশের একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খুঁজে পায় যাত্রাবাড়ী থানা–পুলিশ। সেই ফুটেজ অনুসন্ধানে দুই সন্দেহভাজনের খোঁজ মেলে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মুকিত হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাস কোম্পানির ব্যবস্থাপক আক্তার হোসেন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন হয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজের সূত্র ধরে দুজনকে আমরা গ্রেপ্তার করি। আসামি সুজন এবং সজীব খুনের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন। দুজনই ছিনতাইকারী দলের সদস্য এবং তাঁরা মাদকসেবী। সুজনের নামে আগে একাধিক মামলা রয়েছে। টাকার ব্যাগ না দেওয়ার একপর্যায়ে আক্তার হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে দুই আসামি।’

বিজ্ঞাপন
default-image

পুলিশ কর্মকর্তা মুকিত হাসান বলেন, আক্তার হোসেনকে খুন করার আগে সেদিন রাতে আরও একটি ছিনতাই করেন আসামি সুজন ও সজীব। অনেক দিন থেকে তাঁরা নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
এদিকে সুজন ও সজীবকে ভালোভাবে চেনেন মামলার বাদী নিহত আক্তার হোসেনের ছেলে আকাশ শিকদার। একসময় এ দুই আসামি ধলপুর লিচুবাগান এলাকায় ভাড়া থাকতেন।

আকাশ শিকদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আসামি সুজন ও সজীবকে আমি ভালোভাবে চিনি। আমার আব্বাও চিনতেন। কারণ, সুজন আমাদের এলাকায় তিন থেকে চার বছর ধরে বসবাস করতেন। সম্প্রতি তিনি অন্য এলাকায় চলে যান। আর সজীবও আমাদের এলাকায় একসময় বসবাস করতেন। কেন তাঁরা আমার আব্বাকে খুন করলেন, সেটি জানি না। তবে তাঁরা আদালতে খুনের দায় স্বীকার করেছেন, সেটি জেনেছি।’

মামলার এজাহারে আকাশ শিকদার দাবি করেন, তাঁর বাবা প্রায়ই বলতেন, তিনি কাজে যাওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে অনুসরণ করে আসছিল।
আকাশ শিকদার বলেন, ‘আমার আব্বার সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল না। আমার আব্বাকে যারা হত্যা করেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’

মন্তব্য পড়ুন 0