বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানের বাসভবনে অনুষ্ঠিত প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির এক নিয়মিত সভায় এসব সুপারিশ করা হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মুহাম্মদ সামাদ ও প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী জানিয়েছেন। এই মাসেই অনুষ্ঠেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য মুহাম্মদ সামাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রথমত, সভায় বিবাহিত ছাত্রীদের ক্ষেত্রে থাকা বিধিনিষেধগুলো রহিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রীর নিজের ও সন্তানের পরিচর্যা ও নিরাপত্তার জন্য পরিবারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হলে, সেটিকে সমীচীন মনে করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিষয়টি সামনের সিন্ডিকেটে চূড়ান্তভাবে রহিত করা হবে।’

পরে প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, এটি একটি নিয়মিত সভা ছিল। সভার অন্যতম আলোচ্যসূচি ছিল ছাত্রী হলের আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে থাকা নিয়মটি। বিবাহিত ও অন্তঃসত্ত্বা আবাসিক ছাত্রীদের হলে থাকার বিষয়ে যে বিধিনিষেধ ছিল, তা রহিত করার সুপারিশ করেছে কমিটি৷ তবে অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রীদের ক্ষেত্রে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পারিবারিক পরিবেশে রাখাটা বিশ্ববিদ্যালয় সমীচীন মনে করে। এই সুপারিশ এরপর সিন্ডিকেটে যাবে। সেখানে অনুমোদনের পরই এটি কার্যকর হবে। চলতি মাসের সিন্ডিকেট সভাতেই এটি চূড়ান্ত হতে পারে।

উপাচার্যের সভাপতিত্বে এই সভায় সহ–উপাচার্য মুহাম্মদ সামাদ ও প্রক্টর গোলাম রব্বানী ছাড়াও ১৮টি হলের প্রাধ্যক্ষরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের পাঁচটি হলে আসন বণ্টনসম্পর্কিত নীতিমালার একটি ধারায় বলা আছে, ‘কোনো ছাত্রী বিবাহিত হলে অবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। অন্যথায় নিয়ম ভঙ্গের কারণে তাঁর সিট বাতিল হবে। শুধু বিশেষ ক্ষেত্রে বিবাহিত ছাত্রীকে চলতি সেশনে হলে থেকে অধ্যয়নের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রী হলে থাকতে পারবেন না।’ এই নিয়ম নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। বিষয়টি নিয়ে আজ প্রথম আলোয় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। নিয়মটি বাতিলে আজ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।

১৩ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বরাবর দেওয়া এক আবেদনে পাঁচটি ছাত্রী হলের প্রতিনিধিরা বিবাহিত ছাত্রীদের ক্ষেত্রে থাকা এই নিয়ম বাতিলসহ চার দফা দাবি জানান। উপাচার্য ছাত্রীদের বলেন, সংশ্লিষ্ট ফোরামে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত এই নিয়মই বলবৎ থাকবে। আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে আজ প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক হয়।

ছাত্রীদের অন্য দাবিগুলো হলো শিক্ষার্থীদের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের মর্যাদা রক্ষায় হলের নথিতে ছাত্রীদের ক্ষেত্রে ‘স্থানীয় অভিভাবকের’ পরিবর্তে ‘জরুরি যোগাযোগ’ শব্দটি রাখা, হল প্রশাসনের যেকোনো ধরনের হয়রানি রোধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং অনাবাসিক ছাত্রীদের হলে প্রবেশের অধিকার পুনর্বহাল করা ও জরুরি প্রয়োজনে তাঁদের হলে অবস্থান করতে দেওয়া।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জন্য থাকা ১৩টি হলের কে কোন কক্ষে থাকবে, সে বিষয়ে প্রশাসনের তেমন নিয়ন্ত্রণ নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও অনেকে বছরের পর বছর হলগুলোতে থাকেন। ফলে আসনসংকটের কারণে প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের থাকতে হয় ‘গণরুমে’। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচিতে না গেলে নবীন শিক্ষার্থীদের ওপর নেমে আসে নির্যাতন।

ছাত্রীদের পাঁচটি হলে এ চিত্র কিছুটা ভিন্ন। প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ থাকায় ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পর ছাত্রীদের বড় অংশকেই হলের সিট ছেড়ে দিতে হয়। ফলে প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া ছাত্রীরা কয়েক মাসের মধ্যেই হলে বৈধ সিট পেয়ে যান। তবে অভিযোগ আছে, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের নেত্রীরা ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও বছরের পর বছর হলে থাকেন। সাধারণ ছাত্রীদের ক্ষেত্রে নিয়মের কড়াকড়ি দেখালেও ওই নেত্রীদের বিষয়ে হল প্রশাসনগুলো পক্ষপাতমূলক আচরণ করে থাকে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন