বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

গত দুদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল, বিজয় একাত্তর হল, কবি জসীমউদ্‌দীন হল, স্যার এ এফ রহমান হল, ফজলুল হক মুসলিম হল, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ও জগন্নাথ হল ঘুরে দেখা যায়, হলগুলোর দেয়ালে নতুন করে রং করা হচ্ছে। ডাইনিং, ক্যানটিন, ক্যাফেটেরিয়া ও পাঠকক্ষগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে। হলগুলোর প্রধান ফটকে বসেছে হাত ধোয়ার বেসিন। এমনকি বাগান-মাঠসহ গোটা হল প্রাঙ্গণে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। কয়েকটি হলের গণরুমে নতুন খাটও বসানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক ও বিজয় একাত্তর হলের প্রাধ্যক্ষ আবদুল বাছির প্রথম আলোকে বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ হল সংস্কারের ৯০ শতাংশ কাজ শেষ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হলগুলোর পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি শেষ হবে। হলগুলোয় আর গণরুম থাকবে না।

হল খোলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদের ভার্চ্যুয়াল সভা ডেকেছে কর্তৃপক্ষ। সভায় ছাত্রলীগ, ছাত্রদলসহ ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ১৩টি ছাত্রসংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সভায় হল খোলা ও গণরুম সংস্কৃতি বিলোপের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে ছাত্রনেতাদের মতামত নেওয়া হবে। উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে এ সভায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারাও অংশ নেবেন।

default-image

উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘খোলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে একটি পথরেখা ঠিক করেছে। পথরেখা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে। ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব শিক্ষার্থীকে টিকা নিতে বলা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির দিকে আমরা লক্ষ্য রাখছি। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে হল খোলার সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হবে।’

করোনা পরিস্থিতির কারণে গত বছরের মার্চ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো বন্ধ আছে। এর মধ্যে অনলাইনে ক্লাস ও কিছু বিভাগ-ইনস্টিটিউটের মিডটার্ম-চূড়ান্ত পরীক্ষা হয়েছে। করোনার সংক্রমণ কমে আসা ও শিক্ষার্থীদের টিকা নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষাপটে এখন হলগুলো খোলার প্রস্তুতি চলছে।

হল ও ক্যাম্পাস খোলার পর সবাই কীভাবে চলবেন, সেসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি নীতিমালা তৈরি করেছে। ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ নামের এই নীতিমালায় অভ্যন্তরীণভাবে পালনীয় বিভিন্ন বিষয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, গ্রন্থাগার ও গবেষণাগারের মতো স্থাপনাগুলো পরিচালনার বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে।

নীতিমালার আওতায় হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের কিছু নির্দেশনা মানতে হবে। এগুলোর মধ্যে আছে কক্ষের ফ্লোরে ঘুমানো যাবে না, কক্ষের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে, বাইরে গেলে মাস্ক পরতে হবে, কোনো অতিথি আনা যাবে না, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, হাঁচি-কাশির ক্ষেত্রে কনুইয়ের ভাঁজ বা টিস্যু দিয়ে নাক-মুখ ঢাকতে হবে।

default-image

কোনো শিক্ষার্থী করোনায় সংক্রমিত হলে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রের দু-তিনটি সংরক্ষিত কক্ষে কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। সংক্রমিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলে তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের অতিথিকক্ষগুলোতেও কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে সেখানে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দেওয়া হবে।

এদিকে, হলের ‘গণরুম সংস্কৃতি’ থেকে বের হয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হল কর্তৃপক্ষ গণরুমের শিক্ষার্থীদের তালিকা করে খালি সিটে তাঁদের খসড়া বরাদ্দ দিয়ে রেখেছে। গণরুমের শিক্ষার্থীরা হলে ফেরার পর এসব সিটের বরাদ্দ-তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর নির্ধারিত ফি জমা দিলে তাঁদের গণরুম থেকে বরাদ্দ হওয়া কক্ষে তুলে দেবে কর্তৃপক্ষ। অছাত্র ও বহিরাগত ব্যক্তিদের হলে আর উঠতে দেওয়া হবে না।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন