বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

১৯৬টি সংগঠন নিয়ে গঠিত জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল বিষয়ে দক্ষ হতে না পারলে মেয়েরা আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে না। প্রযুক্তিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের ছেলেমেয়েদের মধ্যে বৈষম্য রয়েছে। এর মধ্যে মেয়েরা বেশি বৈষম্যের শিকার।

মেয়েরা পিছিয়ে

তথ্যপ্রযুক্তিতে অংশগ্রহণের অন্যতম উপায় মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার। লন্ডনভিত্তিক সংস্থা গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল কমিউনিকেশনসের (জিএসএমএ) মোবাইল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ২০২১ অনুসারে, বাংলাদেশে মুঠোফোন ব্যবহারকারী পুরুষ ৮৪ শতাংশ। নারী ৬৪ শতাংশ। মুঠোফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে পুরুষ ৩৩ শতাংশ, নারী ১৯ শতাংশ।

দেশে করোনাকালে তথ্যপ্রযুক্তিতে মেয়েশিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ সম্পর্কে সরকারি-বেসরকারি উপাত্ত পাওয়া যায়নি। তবে করোনাকালের আগে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মাল্টিপল ইনডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০১৯ থেকে এ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। এতে বলা হয়, প্রায় ৩৮ শতাংশ পরিবারে যেকোনো ডিভাইস দিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের ৭১ শতাংশের মুঠোফোন রয়েছে। এর মধ্যে ১৪ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিকস অ্যান্ড মেকাট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক লাফিফা জামাল প্রথম আলোকে বলেন, বিভিন্ন তথ্য বলছে, মাত্র ২৫ শতাংশ নারী তথ্যপ্রযুক্তিগত শিক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ একে পেশা হিসেবে নেয়। বিজ্ঞান ও গণিতের মতো তথ্যপ্রযুক্তিকে ‘কঠিন বিষয়’ উল্লেখ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে প্রথম ভীতি তৈরি করা হয় পরিবার থেকে। এ ভীতি কিশোরীদের মধ্যে প্রযুক্তিতে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে আস্থার সংকট তৈরি করে।

প্রবেশাধিকারের সংকট

ম্রাকুই মারমা খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার শনখোলা পাড়ার ব্র্যাক পরিচালিত স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। ইন্টারনেটে প্রবেশাধিকার না থাকায় ম্রাকুই করোনাকালে অনলাইন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়।

ভাষাগত পার্থক্যের কারণে ম্রাকুইয়ের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলতে তার স্কুলের শিক্ষক সুইনু মারমার সাহায্য নেওয়া হয়। তাঁর কাছ থেকে জানা যায়, ম্রাকুইয়ের পরিবারে একটি ফোন আছে। কিন্তু ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় সে অনলাইনে ক্লাস করতে পারেনি। একই কারণে ম্রাকুইয়ের মতো অনেকেই অনলাইন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়।

ব্র্যাকের হোম স্কুলে অংশ নেওয়া পাহাড়, চর, হাওর, চা–বাগান ও সমতল এলাকার ১ হাজার ২৬১ জন শিশুশিক্ষার্থীর ওপর একটি জরিপ করে সংস্থাটি। জরিপে ৬৩ শতাংশ মেয়ে অংশ নেয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত ‘অ্যাসেসমেন্ট অব দ্য ব্র্যাক এডুকেশন প্রোগ্রাম (বিইপি) হোম স্কুল প্রোগ্রাম: স্ট্রেংথ, উইকনেস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অংশ না নেওয়ার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে মুঠোফোনমালিকের বাইরে থাকা। এ সংখ্যা ৩১ শতাংশ। ১৩ শতাংশ বলেছে, তাদের ডিভাইস নেই। ৬ শতাংশ বলেছে, তাদের নেটওয়ার্ক নেই।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব আইসিটি ইন ডেভেলপমেন্টের (বিআইআইডি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শহীদ উদ্দিন আকবর প্রথম আলোকে বলেন, অনুপ্রেরণা, সুযোগ ও আস্থার অভাবে তথ্যপ্রযুক্তিতে মেয়েরা পিছিয়ে রয়েছে। কোনো কোনো স্কুলে ল্যাব থাকলেও দক্ষ শিক্ষক ও ইন্টারনেট সংযোগ থাকে না। তথ্যপ্রযুক্তিতে মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।

মেয়েদের এগিয়ে নিতে হবে

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ প্রথম আলোকে বলেন, করোনাকাল বুঝিয়েছে, ইন্টারনেট ব্যবহার এখন বিলাসিতা নয়, মৌলিক অধিকার। শুধু পাঠ্যপুস্তক ও শ্রেণিকক্ষের পাঠের ওপর নির্ভর করে সনদমুখী শিক্ষা নয়, বিশ্বের চাহিদার আলোকে প্রযুক্তি–দক্ষতানির্ভর শিক্ষা অর্জন করতে হবে। পারিবারিক, সামাজিকসহ নানা ভাবনা থেকে কিশোরীদের প্রযুক্তি থেকে দূরে রাখার একটা প্রবণতা দেখা যায়। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সামনে এগোতে হবে। মেয়েদেরও প্রযুক্তিতে এগিয়ে নিতে হবে।

জুনাইদ আহ্‌মেদ জানান, ২০২৫ সালের মধ্যে পার্বত্য, চর, হাওরের মতো দুর্গম এলাকাসহ দেশের ১ লাখ ৯ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফাইবার অপটিক্যাল কেব্‌ল পৌঁছানোর লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের সংখ্যা ৩৫ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ চলছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন