বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ইউএনও ও ইউপি চেয়ারম্যানরা এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোতে ‘সাতক্ষীরার এক স্কুলেই ৫০ বাল্যবিবাহ’ শিরোনামের সংবাদ প্রকাশের পর এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আলীপুর ইউনিয়নের আলীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামের স্কুলটির ৬৬ ছাত্রীর এ বছর বিয়ে হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ জনের বাল্যবিবাহ হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর ইউএনও ফাতেমা-তুজ-জোহরা আজ প্রথম আলোকে বলেন, সংবাদপত্রে একটি স্কুলের এতসংখ্যক ছাত্রীর বাল্যবিবাহের ঘটনা প্রকাশের পর এ নিয়ে করণীয় ঠিক করতে এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য সুপারিশ তুলে ধরতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গতকাল গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক, উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাকে (কর্মসূচি কর্মকর্তা) সদস্যসচিব এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে সদস্য করা হয়েছে।

ইউএনও বলেন, ‘আমি আজ (বুধবার) ওই স্কুলসহ পাশের আরেকটি স্কুল পরিদর্শন করে শিক্ষকদের সঙ্গে দুই দফায় বৈঠক করেছি। আগামী শনিবার স্কুলটিতে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে একটি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে শিক্ষক, অভিভাবক, ছাত্রী এবং বেসরকারি সংগঠনের (এনজিও) কর্মীদের অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া বাল্যবিবাহ হওয়ার আগেই যেন তথ্য পাওয়া যায়, সে জন্য স্বেচ্ছাসেবক দলকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।’

আলীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবদুর রউফ আজ প্রথম আলোকে বলেন, ওই স্কুলসহ অন্য স্কুলের শিক্ষকদের বলা হয়েছে, ছাত্রীদের মধ্যে কাদের বাল্যবিবাহ হয়েছে এবং কারা ঝুঁকিতে আছে, সেই তালিকা করে জমা দিতে। তিনি বলেন, ‘বাল্যবিবাহের শিকার মেয়েদের অভিভাবককে ডাকব। তারা কেন এই কাজ করল? সাজা হয় না দেখে ওদের মধ্যে কোনো ভয় কাজ করে না। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, মেয়েগুলোর যে পড়াশোনা হবে না, সে জন্য আমাদেরই কষ্ট বেশি। নিজের ভালো যদি কেউ না বোঝে, তাহলে আপনি-আমি আর কতটুকু করতে পারব!’

সংবাদ প্রকাশের পর আলীপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে আরেকটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়েও তালিকা করা শুরু হয়েছে বলে জেলার বিভিন্ন পেশাজীবীকে নিয়ে গড়া বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির প্রশাসনিক প্রধান মো. সাকিবুর রহমান জানিয়েছেন। তিনি আজ প্রথম আলোকে বলেন, ওই শিক্ষকদের সাতটি দলে ভাগ করে ছাত্রীদের বাড়ি বাড়ি পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি দলের কাছে জানতে পেরেছেন, তাঁরা সাতটি বাল্যবিবাহ শনাক্ত করেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এই স্কুলেও বাল্যবিবাহের সংখ্যা ৪০-৫০ হবে। স্কুল কর্তৃপক্ষ কাল ইউনিয়ন পরিষদে তাদের তথ্য জমা দেবে। ওই ইউনিয়নের বাকি দুটি স্কুল হচ্ছে মাহমুদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাহমুদপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন