default-image

গত শুক্রবার এসএসসির বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা শেষে অটোরিকশায় বাড়ি ফেরার পথে গাড়ি উল্টে কোমরের হাড় ভেঙে যায় তার। তখন থেকে হাঁটতে, বসতে পারে না, উপুড়-কাত হয়ে শুতেও পারে না। চিকিৎসক তাকে বিশ্রামে থাকতে বলেছেন।
তবু এসব উপেক্ষা করে বাড়ি থেকে স্ট্রেচারে করে পরীক্ষাকেন্দ্রে এসে শুয়ে গতকাল শনিবার বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা দিয়েছে সে। তার নাম ফারজানা আক্তার (১৬)। চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার দিঘলদী এম এ ছাত্তার উচ্চবিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে মতলব জেডি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে সে। তার বাড়ি উপজেলার দিঘলদী গ্রামে।
ফারজানা আক্তার বলে, ‘গত শুক্রবার দুর্ঘটনায় কোমরের হাড় ভাঙার পরও পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। পিতা-মাতা, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বারণ এবং চিকিৎসকের বিশ্রামে থাকার পরামর্শ সত্ত্বেও আজ পরীক্ষা দিলাম। সিক বেডে শুয়ে পরীক্ষা দেওয়া কষ্টকর। লিখতে সমস্যা হয়। তবু যতটুকু পেরেছি, লিখেছি। আশা করি, ভালো নম্বর পাব।’
ফারজানার বাবা মো. হাসেম বলেন, চিকিৎসকেরা মেয়েকে আর পরীক্ষা না দিয়ে কমপক্ষে দুই মাস পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে বলেছেন। শিক্ষকেরাও বলেছেন এ বছরের পরীক্ষা বাদ দিয়ে আগামী বছর পরীক্ষা দেওয়ার জন্য। কিন্তু সে কারও কথাই শুনল না।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ কে এম মাহাবুবুর রহমান বলেন, মেয়েটির কোমরের হাড় আংশিক ভেঙে গেছে। এটা জোড়া লাগতে দুই-তিন মাস সময় লাগবে। তাকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন