default-image

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রথম নারী মেয়র প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী। অন্য প্রার্থীদের তুলনায় বয়সের দিক থেকে সবচেয়ে তরুণ তিনি। ভোটের রাজনীতিতে মনীষার ভরসার জায়গাও সেই তারুণ্য।

মনীষা চক্রবর্তী বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বরিশাল জেলা কমিটির সদস্যসচিব। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গণসংযোগ, পথসভা এবং অন্যান্য প্রচারে মাঠে আছেন তিনি। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করছেন। এসব গণসংযোগে মনীষা খুব অল্প কথায় জনগণের কাছে নিজের বার্তা দিচ্ছেন। এরপর চাইছেন ভোট।

বরিশাল সিটি করপোরেশনে এবার নতুন ভোটার হয়েছেন ৩০ হাজারের বেশি তরুণ-তরুণী। মনীষা চক্রবর্তী বলছেন, এই তারুণ্যের ওপর তিনি আস্থা রাখতে চান। শিক্ষিত তরুণ সমাজ পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখবে—এমন আশাবাদ তাঁর।

সিটি করপোরেশন এলাকা হলেও বরিশালে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি বললেই চলে। কিছু সড়ক ছাড়া মহানগরের বেশির ভাগ সড়কের অবস্থা করুণ। কিছু ওয়ার্ডের রাস্তা চলাচলের উপযুক্তও নয়। এহেন সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে অধিকারবঞ্চিত ও অনুন্নত এলাকার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মনীষা। মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হলে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অঙ্গীকারও করেছেন তিনি।

এর আগে স্থানীয় রিকশাশ্রমিকদের পক্ষে আন্দোলন করতে গিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করা মনীষা চক্রবর্তী। ওই সময় তিনি জেলও খেটেছেন। ভোটাররা কেন তাঁকে ভোট দেবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মনীষা প্রথম আলোকে বলেন, যাঁরা পরিবর্তন চান, তাঁরা তাঁকে বেছে নেবেন। বরিশালের তরুণ ভোটার ও নারীদের একটি বড় অংশ তাঁকে ভোট দেবেন বলে আশা করছেন তিনি।

সিটি করপোরেশনের তরুণ ভোটারদের একজন মো. ইয়াসিন। এবারই প্রথম ভোটার হয়েছেন তিনি। ইয়াসিন বলছেন, ভোট কাকে দেবেন এখনো ঠিক করেননি। তবে মনীষা চক্রবর্তীর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড দেখে ভালো লেগেছে তাঁর।

বরিশাল সিটি করপোরেশনে নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত লোকের সংখ্যা বেশি। ২ লাখ ৪২ হাজারের কিছু বেশি ভোটারের এই সিটিতে সুবিধাবঞ্চিত এবং শ্রমিক শ্রেণির ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। বরিশাল সিটি করপোরেশনে সবচেয়ে বেশি ভোট আছে পলাশপুর এলাকায়। এখানে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার ভোটার।

শুধু রাজনীতিক নন, চিকিৎসক হিসেবেও এলাকায় পরিচিত মনীষা। বিভিন্ন সময় তিনি এলাকায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করেছেন। পলাশপুর এলাকার একজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ‘মনীষা চক্রবর্তী গরিব মানুষের বন্ধু। তাঁর কাছে যেকোনো সময় যাওয়া যায়। প্রয়োজনে পাশে পাওয়া যায়। তিনি সবার জন্য কাজ করার চেষ্টা করেন।’

ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ-বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে তরুণ মনীষা কতটুকু ভালো করতে পারবেন—এ নিয়ে স্থানীয় মহলে জোর আলোচনা আছে। প্রথম আলোকে মনীষা চক্রবর্তী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মেয়র হলেই কেবল উন্নয়নের জোয়ার বইবে—এটা মূলত ফাঁপা বুলি। বরিশালে কোনো দিক থেকে উন্নয়ন হয়নি। নির্বাচন এলে বড় বড় মানুষের পরিচয় ব্যবহার করে ভোট চাওয়া ছাড়া তাঁদের আর কিছু করার থাকে না।’

বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে মানুষ কাউকে নির্বাচিত করবে না—এই দিন শেষ। উন্নয়ন শুধু ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা করতে পারেন, সেই কথাও সত্যি নয়।

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মেয়র প্রার্থী বলছেন, নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে—এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মনীষার দাবি, ‘কালোটাকার খেলা’ চলছে। এ কারণে তিনি আস্থা রাখতে পারছেন না ।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) বরিশাল শাখার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘মনীষা চক্রবর্তীর বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচনা বা প্রশংসার দাবি রাখে, কারণ তিনি বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রথম নারী মেয়র প্রার্থী। মনীষা শিক্ষিত, মার্জিত—এ কারণে তিনি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। রাজনৈতিক দল হিসেবে বাসদ জনপ্রিয়, নাকি জনপ্রিয় নয়—এর চেয়ে মনীষার নির্বাচনে দাঁড়ানোর সাহসকেই স্বাগত জানানো উচিত। তাঁর মাটির ব্যাংককেন্দ্রিক ধারণাও ইতিবাচক।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন