default-image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁতশিল্পের উন্নতি ও প্রসারে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ এবং সেই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী মসলিন ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই শিল্পকে আরও আধুনিক ও বহুমুখীকরণ করা হবে।
রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গতকাল রোববার বাংলাদেশ তাঁতী লীগের জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাঁতের শাড়ি আমরা ব্যবহার করি। তবে আমার মনে হয় আমাদের ছেলেমেয়েরাও এই তাঁতিদের তৈরি কাপড় ব্যবহার করতে পারে। এই শাড়ি দেখতেও সুন্দর।’ এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর সন্তানদের তিনি খদ্দরের কাপড় কিনে দেন এবং সবাই তা পরেন। তাঁতের কাপড় শুধু পরিধান নয়, গৃহে নানামুখী কাজে ব্যবহারেরও সুযোগ রয়েছে। তাই সবাইকে সেদিকে নজর দিতে হবে।
তাঁতিদের প্রশিক্ষণের জন্য নরসিংদীর তাঁতশিল্প ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটকে আরও উন্নত করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চার বছর মেয়াদে ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল কোর্স চালু করে সেখানে ভর্তির ক্ষেত্রে তাঁতি পরিবারের সদস্যদের জন্য ১০ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, নতুন নতুন ডিজাইন উদ্ভাবনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ৪১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ফ্যাশন ডিজাইন ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং একটি বেসিক সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নরসিংদীতে একটি ফ্যাশন ডিজাইন ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপনের কাজ প্রায় ৯৫ ভাগ শেষ হয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি, টাঙ্গাইল ও মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জে একটি করে তিনটি প্রশিক্ষণ উপকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র জামদানিপল্লি, বেনারসিপল্লি ও তাঁতপল্লি স্থাপনের কাজ চলছে। নারায়ণগঞ্জের তারাবোয় ক্ষুদ্র তাঁতিদের জন্য প্লট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তাঁতিদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। তাঁদের ঋণ দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাঁতিদের কল্যাণে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। বাজেটে সুতা ও রং আমদানিতে ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর রহিত করা হয়েছে, যাতে দাম কমে। মাদারীপুরের শিবচর এবং শরীয়তপুরের জাজিরায় ১২০ একর জমিতে তাঁতপল্লি স্থাপন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।’
সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বাংলার ঐতিহ্যবাহী মসলিন আবার ফিরিয়ে আনার ব্যাপারেও তাঁর সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশে আমরা একটা সমীক্ষা করছি। মসলিন কোন কোন এলাকায় তৈরি হতো, এর সুতা আবার পাওয়া যায় কি না, এ জন্য আমরা গবেষণা করছি।’
এ বিষয়ে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘মসলিনের ওপর ৪ ইঞ্চি জরির কাজ করতে পুরোটা দিন লেগে যায়।...এই যে তাঁরা মনোযোগ দিয়ে একটি বস্ত্র তৈরি করছেন, এটাও তো অত্যন্ত উন্নতমানের শিল্প। কাজেই এটাকে আরও বেশি সহযোগিতা করার জন্য আমাদের সরকার সব সময় প্রস্তুত এবং আমরা তা করে যাব।’
তাঁতশিল্পের প্রসারে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ৪২৬টি তাঁতের বিপরীতে ১৪২ জন তাঁতিকে ৪৯ লাখ ২৬ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ তাঁতী লীগের আহ্বায়ক এনায়েতুর রহমান চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ তাঁতী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাধনা দাস গুপ্তা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন