default-image

সোনালী ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির মামলায় অভিযুক্ত হল–মার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ, তাঁর স্ত্রী জেসমিন ইসলাম ও ভায়রা তুষার আহমেদ কারাগারে আছেন। হল-মার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় গ্রেপ্তার এই তিনজনকে পৃথক তিনটি মাইক্রোবাসে করে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়।
রোববারও তাঁদের পৃথক তিনটি মাইক্রোবাসে করে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়।

কাশিমপুর কারাগার কর্তৃপক্ষ বলছে, হল–মার্কের তানভীর, তাঁর স্ত্রী জেসমিন ইসলাম এবং তুষার আহমেদকে প্রিজন ভ্যানে আনার পরিবর্তে মাইক্রোবাসে করে কারাগার থেকে আদালতে আনার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। আদালতের নির্দেশনা মোতাবেকই এই তিন আসামিকে তাঁদের খরচায় মাইক্রোবাসে করে কারাগার থেকে আদালতে আনা–নেওয়া করা হয়।

৬ জানুয়ারি হল-মার্কের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) তুষার আহমদ কাশিমপুর কারাগারে এক নারীর সঙ্গে সময় কাটান। এ ঘটনায় কারাগারের জেল সুপার, জেলার ও ডেপুটি জেলারকে ওই কারাগারের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

আজ রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, তিনজনের জন্য আলাদা তিনটি মাইক্রোবাস। তিনটি গাড়িতে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা আছেন। সকাল ৯টার পর তাঁদের কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। আদালতের শুনানি শেষে বেলা দুইটার দিকে আবার তিনটি পৃথক মাইক্রোবাসে করে তাঁদের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

মামলার নথিপত্র বলছে, তুষার আহমেদ ও তানভীর মাহমুদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার বিচারিক আদালত তাঁদের নিজ খরচায় মাইক্রোবাসে করে আনা–নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। প্রত্যেকে আদালতের কাছে লিখিতভাবে দাবি করেছেন, তাঁরা অসুস্থ। তুষার আদালতকে জানিয়েছেন, তাঁর কোমর, পিঠ ও বুকে প্রচণ্ড ব্যথা। তাঁর বুকের পাজরের হাড়ক্ষয় হয়েছে। যে কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না।

তুষারের আইনজীবী এম বোরহান উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, তুষার অসুস্থ থাকায় কারাগার থেকে আদালতে মাইক্রোবাসে করে আনা–নেওয়া করা হয়। মাইক্রাবাসে করে আনা–নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। মাইক্রোবাসের ভাড়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ আসামি বহন করেন।

default-image

অন্যদিকে তানভীর আদালতকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন, তিনিও অসুস্থ। জেসমিন ইসলামের পক্ষেও আদালতকে লিখিতভাবে জানানো হয়, তিনি অসুস্থ।
হল–মার্কের তুষার আহমেদ আছেন কাশিমপুর কারাগার-১–এ। ওই কারাগারের জেলার রীতেশ চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক হল–মার্কের তুষার আহমেদকে মাইক্রোবাসে করে আদালতে আনা-নেওয়া করা হয়। সব খরচ বহন করেন আসামি তুষার আহমেদ। তানভীর মাহমুদ আছেন কাশিমপুর কারাগার-২–এ। ওই কারাগারের জেলার আবু শাহীনও আদালতের আদেশের কথা জানান।
অন্যদিকে তানভীরের স্ত্রী জেসমিন ইসলাম আছেন কাশিমপুরের মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে।

default-image

অবশ্য দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম প্রথম আলোকে বলেন, দুদকের মামলায় তানভীর, তুষার ও জেসমিন ইসলাম কারাগারে আছেন। কারা কর্তৃপক্ষ কীভাবে তাঁদের আনা–নেওয়া করে, সেই বিষয়ে তাঁর জানা নেই।

বিচার শেষ হয়নি

মামলার নথিপত্র বলছে, সোনালী ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির ১১ মামলায় অভিযুক্ত হল-মার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদসহ অন্যদের বিচারকাজ এখনো শেষ হয়নি। ১১টি মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত মোট সাক্ষীর সংখ্যা ৮৫৩।
দুদকের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম প্রথম আলোকে বলেন, এখন প্রতিটি শুনানির তারিখে দুদকের পক্ষ থেকে আদালতে সাক্ষী হাজির করা হচ্ছে। আজ রোববারও চারজন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এই মামলার সব অভিযোগপত্রভুক্ত সাক্ষীকে হাজির করা হবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, চলতি বছরের মধ্যে মামলার বিচারকাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
নথিপত্রের তথ্য বলছে, সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে রূপসী বাংলা (সাবেক শেরাটন) হোটেল শাখা থেকে হল–মার্ক মোট ২ হাজার ৬৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন