আমরা সম সময় বলেছি, রাজাকারদের তালিকা করতে হবে গবেষকদের দিয়ে। জেলা প্রশাসন প্রশাসনিকভাবে সহযোগিতা করবে। গবেষকেরা কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন থেকে তথ্য সংগ্রহ করবেন।

আমাদের অনেক লেখক–গবেষক রয়েছেন, যাঁরা জেলা ও উপজেলা আর আঞ্চলিক পর্যায়ের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বই লিখেছেন। তাঁদের চেয়ে ভালো কেউ রাজাকারদের বিষয়ে জানবেন না। তাই সরকারের উচিত জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত কমিটি করে রাজাকারের তালিকা প্রণয়ন করা। অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, শামসুল আরেফীনসহ অনেক গবেষক এসব বিষয়ে অনেক গবেষণা করেছেন। শান্তি কমিটি, আলবদর নিয়ে তাদের বই বেরিয়েছে, তালিকা রয়েছে। তাঁদের না কাজে লাগিয়ে জামুকার কর্মকর্তাদের দিয়ে তালিকা করানো অত্যন্ত ভুল সিদ্ধান্ত।

এর আগে দালাল আইনে অভিযুক্তদের তালিকা যেটা ছিল সেটাও টেম্পারড (বিকৃত) হয়েছে। সেটায় বিএনপি জামায়াতের আমলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ঢোকানো হয়েছে। যে কারণে পুরো তালিকাটি প্রশ্নবিদ্ধ। কিন্তু এই তালিকা এখন পর্যন্ত সংশোধন করা হয়নি। এ ছাড়া আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নিয়েও অনেক প্রশ্ন রয়েছে। অনেক মুক্তিযোদ্ধা যাঁদের সবাই চেনে, তাঁদের নাম যুক্ত হয়নি তালিকায়।

এর আগে আমরা কুখ্যাত রাজাকারদের নাম দিয়ে ঘৃণাস্তম্ভ তৈরি করেছিলাম।

আমাদের তালিকায়ও যে রাজাকারদের নাম আছে, তাঁদের সন্তানেরাও এখন দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগ করছে। তাঁরা এসে প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে জামুকার কাছে। তাই বুঝতে হবে রাজাকারদের তালিকা করা এত সহজ হবে না। তাঁদের লোকজন সব জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে। বিভিন্ন সময় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যাঁরা কাজ করেছেন, গবেষণা করেছেন তাঁদের নিয়ে, ওই সময় যাঁরা সাংবাদিকতা করেছেন, তাঁদের যুক্ত করে এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে এই কাজটি করতে হবে। জামুকা এই কাজের জন্য উপযুক্ত নয়।

শাহরিয়ার কবির
সভাপতি , একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন