default-image

একসময় মাতামুহুরীর চরের পুরোটা দখল করে ছিল তামাক। এখন দিন পাল্টেছে। তামাকের জায়গা দখলে নিচ্ছে বাদাম। ফলন-দাম দুটোই ভালো। খুশি চাষি।
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরীর নদীর চরে প্রতিবছর বাড়ছে বাদাম চাষ। গত বছর উপজেলা বাদাম চাষ হয় ৩০ একর জমিতে। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ একরে। এর মধ্যে মাতামুহুরীর চরেই ২০ একর। চরের এসব জায়গায় আগে তামাকের চাষ হতো।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, মাতামুহুরী নদীর সেতুসংলগ্ন চরে কয়েকজন চাষি বাদাম তুলছেন। চরের মধ্যে টং ঘর বানিয়ে সেখানেই বাদাম বাছাই করছেন চাষিরা। আবার কয়েকজন চাষি ব্যস্ত খেত পরিচর্যায়।
চাষি নজরুল ইসলাম (৩৮) জানান, কিছু খেত থেকে বাদাম তোলা হচ্ছে। তবে বাদাম তোলা পুরোদমে শুরু হবে ফাল্গুন মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে, চলবে মধ্য বৈশাখ পর্যন্ত। তিনি বলেন, আশ্বিন মাস থেকে বাদামের বীজ বপন শুরু হয়ে অগ্রহায়ণ মাসে শেষ হয়েছে। জাফর আলম (৪০) নামের আরেক চাষি বলেন, ‘একসময় তিন একর জমিতে তামাকের চাষ করতাম। তামাক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বোঝার পর আর চাষ করিনি। এর পর থেকে বাদাম চাষ করে আসছি। বাদাম চাষে ভালো লাভ।’
এদিকে চাষি শফিউল আলমের (৪৫) গল্পটা অন্য রকম। তিনি একসময় রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন। ফলে অভাব পিছু ছাড়ত না। তিন বছর ধরে রিকশা চালানো ছেড়ে দিয়ে তিনি মাতামুহুরী নদীর চরে বাদাম চাষ করছেন। এখন তিনি সচ্ছল।
শফিউল বলেন, ‘এবার তিন একর (সাড়ে সাত কানি) জমিতে বাদাম চাষ করেছি। শ্রমিকের মজুরি, জমির লাগিয়ত নেওয়া, সেচ ও বীজ কেনাসহ খরচ পড়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। গত ১০ দিনে ৯০ হাজার টাকার বাদাম বিক্রি করেছি। আরও অন্তত তিন লাখ টাকার বাদাম মাঠে রয়েছে। তা বিক্রি করতে পারলে পরিবার নিয়ে সুখেই থাকতে পারব।’
চাষিরা জানান, চকরিয়া উপজেলায় চীনা ও দেশি—এ দুই জাতের বাদামের চাষ হয়। তবে চীনা বাদামে লাভ বেশি। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি বাদাম বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায় এবং বীজের বাদাম বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, মাতামুহুরীর নদীর চর ছাড়াও চকরিয়া উপজেলার হাজিয়ানের চর, চকরিয়া পৌরসভার বাটাখালী, আমাইন্ন্যার চর, পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ঘাইট্টার চর, কাকারা ইউনিয়নের মাঝের ফাঁড়ি, সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের মাতামুহুরী-সংলগ্ন এলাকায় অন্তত ১৫ একর জমিতে বাদামের চাষ হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিক উল্লাহ বলেন, বাদাম চাষ চকরিয়ায় জনপ্রিয় হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে চাষিদের। সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে চাষিদের তামাকের পরিবর্তে বাদাম চাষ করতে অনুপ্রেরণা দেওয়া হচ্ছে। একদিন তামাকের বিষ চকরিয়া অঞ্চল থেকে উধাও হয়ে যাবে বলে তিনি আশা করেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন