তারেককে ফেরত আনতে চায় সরকার, যুক্তরাজ্যকে চিঠি

বিজ্ঞাপন

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিচারের জন্য দেশে ফেরত পাঠাতে যুক্তরাজ্যকে অনুরোধ করছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ডকে একটি চিঠি লিখেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী।
যুক্তরাজ্যের কাছে বাংলাদেশের এ অনুরোধের খবর সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র গত বুধবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে নিশ্চিত করে। যুক্তরাজ্যের কূটনীতিক সূত্রগুলো জানায়, ফিলিপ হ্যামন্ডের কাছে লেখা মাহমুদ আলীর চিঠিটি ইতিমধ্যে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের হাতে পৌঁছেছে। দুই-এক দিনের মধ্যে তিনি চিঠিটি হ্যামন্ডের কাছে পৌঁছে দেবেন।
তারেক রহমান জামিন নিয়ে চিকিৎসার জন্য ২০০৮ সালে লন্ডনে গেলেও আর দেশে ফেরেননি। সরকার মনে করে, লন্ডনে অবস্থানের সুযোগ নিয়ে তিনি এমন সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন, যা বাংলাদেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার পাশাপাশি স্বার্থের পরিপন্থী।
আইনের দৃষ্টিতে পলাতক থাকায় তারেক রহমানের বক্তৃতা-বিবৃতি গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ নিষিদ্ধ করতে হাইকোর্ট ৭ জানুয়ারি আদেশ দেন। ওই আদেশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তাঁর বিদেশে অবস্থানের বর্তমান অবস্থা জানাতে পররাষ্ট্রসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে জানান, চলমান মামলায় বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পথ সুগম করতে তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে যুক্তরাজ্যকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের অন্য এক সূত্র জানায়, তারেক রহমানকে ফেরত আনতে এই প্রথম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের কোনো মন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়ে এ ধরনের অনুরোধ এটাই প্রথম।
প্রায় সাত বছর যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত তারেক রহমান এখন দেশটিতে কী অবস্থায় রয়েছেন, সে সম্পর্কে গতকাল জানতে চাইলে ঢাকায় যুক্তরাজ্য হাইকমিশন সুনির্দিষ্টভাবে কোনো তথ্য জানাতে পারেনি।
অবশ্য এর আগে বিভিন্ন সময়ে ঢাকা সফরকারী দেশটির কোনো মন্ত্রী বা বাংলাদেশে দায়িত্বপালনকারী হাইকমিশনারের কাছে জানতে চাইলে তাঁরা জানিয়েছিলেন, কোনো ব্যক্তির অভিবাসনগত অবস্থান নিয়ে গণমাধ্যমে তথ্য জানানোর বিধান নেই।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন