আদালতে তারেক-জোবাইদার রিটের বিষয়ে শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী কায়সার কামাল। দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন শুনানিতে অংশ নেন।

শুনানিতে যা হলো

শুনানিতে দুদকের আইনজীবী বলেন, তিনটি মামলায় তারেক রহমান দণ্ডিত হয়েছেন। তাঁর সাজাপরোয়ানা এখনো ঝুলছে। যদি তিনি দণ্ডিত না হতেন আর মামলাগুলোর বিচার শেষ না হতো, তাহলে ভিন্ন কথা। তারেক রহমান এ মামলায় পলাতক। একই মামলা বাতিল চেয়ে জোবাইদা রহমানের করা আবেদনের ওপর সর্বশেষ আপিল বিভাগ গত ১৩ এপ্রিল রায় দেন। এই রায়ে আপিল বিভাগ বলে দিয়েছেন, জোবাইদা রহমান পলাতক। পলাতক বলে তাঁদের পক্ষে আইনজীবী শুনানি করতে পারেন না।

অন্যদিকে, তারেক ও জোবায়দার বিষয়ে আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘মামলাটি ভ্রূণ অবস্থায়। এখনো অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়নি। তাই আত্মসমর্পণ করার পর্যায়ে আসেনি। জোবাইদা রহমানের ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করা হবে, তাই এ বিষয় নিয়ে বলছি না। তবে তারেক রহমান যখন রিট করেন, তখন তিনি পলাতক ছিলেন না। কোনো মামলায় কেউ দণ্ডিত হলে বিচারাধীন অপর মামলায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে পলাতক হয়ে যাবেন—এমন নজির দেখছি না। তারেক রহমান এ মামলায় জামিন পেয়েছেন, যা আপিল বিভাগ বহাল রেখেছেন। তাই এ মামলায় তাকে পলাতক বলা যাবে না।’

এর আগে শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, আপিল বিভাগ রায়ে বলে দিয়েছেন, জোবায়দা রহমান পলাতক। এ মামলায় পলাতক হিসেবে বিবেচিত হবেন। ওই মামলা বাতিল আবেদনে ২০০৮ সালের ৭ এপ্রিল জোবায়দা হাইকোর্টে হাজির হন। পরদিন হাইকোর্ট রুল ও স্থগিতাদেশ দেন। এমন চর্চা করা যাবে না বলে রায়ে বলেছেন আপিল বিভাগ।

একই মামলা নিয়ে রিট ও বাতিল আবেদন করা যাবে না। আট সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের অংশবিশেষ বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের রায়ের রিভিউ চাইতে হলে তাঁকে (জোবায়দা) আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এ অবস্থায় আপিল বিভাগের রায় কার্যকর থাকবে। রিট ও বাতিল আবেদনের পরিণতি একই হবে। আপিল বিভাগের অভিমত অনুসারে পলাতক জোবায়দার পক্ষে আইনজীবী লড়তে পারবেন না।

অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন শুনানিতে বলেন, এ মামলায় তারেক রহমানকে ২০০৭ সালের ৩১ অক্টোবর গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর হয়। রিট দুটির একটিতে লেটার অব অথরিটি (ক্ষমতা অর্পণপত্র) দেওয়া হয়েছে ২০০৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এবং অন্যটিতে ২০০৭ সালের ৩০ অক্টোবর, অর্থাৎ গ্রেপ্তার দেখানোর আগে। এখন তিনি পলাতক।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন