আদালতে বিএসটিআইয়ের প্রতিবেদন

তিনটি ফলের ছয় নমুনায় ফরমালিন নেই

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর খোলাবাজার থেকে সংগৃহীত আম, লিচু ও আপেলের ছয়টি নমুনা পরীক্ষা করে কোনোটিতেই ফরমালিন পায়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।
একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশে ফলসহ বিভিন্ন খাদ্য পরীক্ষা করে আদালতে এমন প্রতিবেদন দিয়েছে বিএসটিআই৷
বিএসটিআইয়ের প্রতিবেদনে দেখা যায়, তিনটি ফলের ছয়টি নমুনাই সংগ্রহ করা হয় কারওয়ান বাজার থেকে। পরীক্ষা করা হয় ২১ থেকে ২২ মে৷
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘যদি যথাযথভাবে নমুনা সংগ্রহ ও সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চালানো পরীক্ষায় ওই ফলাফল পাওয়া যায়, তাহলে তাকে স্বাগত জানাই৷’
শুধু কারওয়ান বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করার বিষয়টি উল্লেখ করা হলে আ ব ম ফারুক বলেন, ‘পরীক্ষার প্রক্রিয়া ঠিক থাকলেই হলো৷ দেশের অন্য স্থানে কী পাওয়া গেল, তা জানার আগ্রহ থাকল৷’
দ্য ডেইলি স্টার-এ গত ২৮ এপ্রিল ‘ফরটি পারসেন্ট ফুড পয়জনাস’ (৪০ শতাংশ খাদ্য বিষাক্ত) শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে আইনজীবী কাজী মাঈনুল হাসান রিট আবেদন করেন। ২৯ এপ্রিল হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রুল ও নির্দেশনা দেন। স্বাস্থ্যসচিব, খাদ্যসচিব ও বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালকের প্রতি তদন্ত করে এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা প্রতিবেদন আকারে আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। চলতি মাসের প্রথমে বিএসটিআই ওই প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে৷
বিএসটিআইয়ের প্রতিবেদন বলা হয়, ঢাকার খোলাবাজার থেকে সংগৃহীত ফলের ছয়টি নমুনা বিএসটিআইয়ের ঢাকা রসায়ন পরীক্ষাগারে আন্তর্জাতিক পদ্ধতি (এওএসি মেথড) অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়৷ এ পরীক্ষার প্রতিবেদন অনুযায়ী কোনোটিতেই ফরমালিন পাওয়া যায়নি। এতে আরও বলা হয়, গুণগত মান যাচাইয়ের কার্যক্রম বিএসটিআইয়ের প্রধান কার্যালয়সহ এর আঞ্চলিক অফিসগুলোতে অব্যাহত রয়েছে।
ফলে ফরমালিন প্রয়োগের ব্যাপক অভিযোগ থাকলেও শুধু কারওয়ান বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিএসটিআইয়ের পরিচালক (সিএম) কমল প্রসাদ দাস গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে কারওয়ান বাজার থেকে ফলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়৷ পরীক্ষার এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে৷ পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত কখনো ফরমালিনের উপস্থিতি পেয়েছে, কখনো পাওয়া যায়নি৷’
রিট আবেদনকারী আইনজীবী কাজী মাঈনুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, বিএসটিআই তাদের প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছে। অন্যদের প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৯ জুন এক সপ্তাহ সময় নিয়েছে সরকার পক্ষ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন