বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত ৩০ সেপ্টেম্বর পল্লবী থেকে তিন কলেজছাত্রীকে (বয়স ১৬ থেকে ১৭ বছর) মাইক্রোবাসে করে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ আনেন একজন অভিভাবক। ২ অক্টোবর পল্লবী এলাকার রাকিবুল্লাহসহ (২০) চারজনের নামে পল্লবী থানায় অপহরণ মামলা করেন তিনি। ওই দিনই চারজনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। রাকিবুল্লাহ নামের আসামিকে দুদিন রিমান্ডে নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

এর মধ্যে ৬ অক্টোবর ওই তিন কলেজশিক্ষার্থীকে রাজধানীর অদূরে আবদুল্লাহপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করে র‍্যাব। পরে র‍্যাব-৪–এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান, হাফসা নামের ২০ থেকে ২২ বছর বয়সী এক তরুণীর খপ্পরে পড়ে ঘর ছেড়েছিল তিন শিক্ষার্থী।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু সাঈদ আল মামুন সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, তিন কলেজছাত্রী অপহরণের মামলা তদন্ত করতে গিয়ে ‘হাফসা’ নামের এক তরুণীর নাম তাঁরা জানতে পেরেছেন। তবে তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি। তাঁর পূর্ণাঙ্গ পরিচয় খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। ওই তিন শিক্ষার্থীও হাফসা নামের তরুণীর কথা বলেছে।

ওই ছাত্রীদের উদ্ধারের পর র‍্যাব কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন বলেছিলেন, ওই তিন কলেজছাত্রী মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের খপ্পরে পড়েছিল। ওই ছাত্রীদের মধ্যেও একধরনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল। করোনার সময়ে তাদের পড়াশোনার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এতে তারা পরিবারের ওপর বিরক্ত ছিল। অপহরণ মামলায় যাদের আইনের সংস্পর্শে আনা হয়েছে, তাদের একজন ওই ছাত্রীদের পূর্বপরিচিত ছিল। সম্প্রতি ওই কিশোরসহ এই ছাত্রীরা দিয়াবাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখানেই তরুণীর (হাফসা) সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। ওই তরুণী তখন বলেছিলেন, তিনি জাপানে থাকেন। জাপানে তাদের নিয়ে যেতে পারবেন। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন। সেখানে অনেক উন্নত জীবনযাপন করা যাবে।

র‍্যাবের তথ্য বলছে, বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পর নানা পথ ঘুরে তিন কলেজশিক্ষার্থী কক্সবাজারে যায়। একজন শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে ছয় লাখ টাকাও নেয়। তবে কক্সবাজার সৈকতে যাওয়ার পর দুই যুবক তাদের কিছু টাকা ছিনিয়ে নেন। এরপর এক রাত তারা হোটেল থেকে বেরই হয়নি। ভয় পেয়েই তারা আবার ঢাকায় ফিরে আসে।

এদিকে ওই ছাত্রীদের অপহরণের অভিযোগে মামলা করেছিলেন যে অভিভাবক, তিনি পেশায় আইনজীবী। তিনি সোমবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাফসা নামের ওই নারীর খপ্পরে পড়েই আমার বোনসহ তিনজন বাড়ি ছেড়েছিল বলে জানতে পেরেছি। মামলার একজন আসামি ওই হাফসার সঙ্গে আমার বোনসহ অন্যদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। যাদের নামে আমি মামলা করেছি, তারা মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য কি না, সেটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তদন্ত করে দেখবেন।’
এই আইনজীবী বলেন, তাঁর বোনই বাসা থেকে ছয় লাখ টাকা নিয়েছিল। এর মধ্যে পাঁচ লাখ টাকা র‍্যাব উদ্ধার করেছে।

হাফসার বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক সজীব খান সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাফসা নামের যে তরুণীর কথা বলা হচ্ছে, তাঁর আসল নাম এটা কি না, তা–ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই তরুণীকে আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’

তিন কলেজছাত্রীকে উদ্ধারের পর ৯ অক্টোবর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে তাদের হাজির করা হয়। পরে তিন ছাত্রী আদালতের কাছে জবানবন্দি দেয়। এরপর তাদের পরিবারের জিম্মায় থাকার অনুমতি দেন আদালত।
নির্দোষ দাবি চারজনের

তিন কলেজছাত্রীকে অপহরণ মামলায় কারাবন্দী চারজনের পক্ষ থেকে আদালতের কাছে লিখিতভাবে বলা হয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে তারা জড়িত নয়। আইনের সংস্পর্শে আসা মেয়েশিশুটির পক্ষে দাবি করা হয়েছে, বাদীর বোন তার বান্ধবী হয়। তবে এ ঘটনার কিছুই সে জানে না। কক্সবাজারে ওই তিনজন ঘুরতে গিয়েছিল, র‍্যাব পরে তাদের উদ্ধার করেছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী সাইদুল ইসলাম ও খন্দকার রাহুল রহমান প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, তিন কলেজছাত্রী অপহরণের শিকার হয়নি। বরং স্বেচ্ছায় তারা ঘর ছেড়েছিল। এ মামলায় তিনজন আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু। চারজনই লেখাপড়া করে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে নিশ্চয় আদালত ন্যায়বিচার করবেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন