বগুড়ার দুপচাঁচিয়া, নওগাঁর ধামইরহাট ও পোরশা এবং গাইবান্ধায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসল, গাছপালা ও বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে দুপচাঁচিয়া উপজেলায় ১৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
দুপচাঁচিয়া (বগুড়া): রাত সোয়া ১১টার দিকে দুপচাঁচিয়া উপজেলার জিয়ানগর ও গুনাহার ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রচণ্ড বেগে ঝড় বয়ে যায়। এ সময় বৃষ্টির সঙ্গে শিলও পড়ে। শিলাবৃষ্টিতে ১০-১২ দিন আগে বোরো খেতে লাগানো ধানগাছের মাথা ভেঙে গেছে। ঘরের টিন উড়ে গিয়ে মাটির তৈরি ঘরের ক্ষতি হয়েছে। গাছপালা ভেঙে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে। প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। শিলাবৃষ্টিতে ১৭-১৮টি গ্রামের কৃষকের জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জিয়ানগর ইউনিয়নের বিশা গ্রামের কৃষক আবদুস সালাম ও খলিশ্বর গ্রামের কৃষক আবেদ আলী জানান, কয়েক দিন আগে বোরোর ধান গাছ লাগানো হয়েছে। শিলাবৃষ্টিতে ধানগাছের মাথা ভেঙে গেছে।
গুনাহার ইউনিয়নের খাগড়া গ্রামের কৃষক হাম্মাদ আলী জানান, তাঁর গ্রাম ও ভান্ডুরিয়া গ্রামের কয়েকটি বসতঘরের টিন উড়ে গেছে।
জিয়ানগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কায়সার আলী বলেন, শিলাবৃষ্টিতে প্রায় ৮০ বিঘা জমির বোরো ধানের গাছ নষ্ট হয়েছে।
ঝড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় ১৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।
পিডিবির দুপচাঁচিয়া বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঝড়ে গাছ ভেঙে এবং কোনো কোনো স্থানে উড়ে আসা টিন পড়ে বিদ্যুতের তারের ক্ষতি হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুর রহমান খান বলেন, ঝড়ে বড় ধরনের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
আদমদীঘি (বগুড়া): নওগাঁর ধামইরহাট ও পোরশা উপজেলায় আকস্মিক ঝড় ও বৃষ্টিতে ফসল ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত উপজেলা সদরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের ওপর দিয়ে আকস্মিকভাবে বৃষ্টিসহ ঝড় বয়ে যায়। প্রচণ্ড ঝড়ে এলাকার গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয় ও কয়েক শ গাছ উপড়ে যায়। বেশি ক্ষতি হয়েছে আম ও লিচুগাছের। এসব আম ও লিচুগাছে ব্যাপক আকারে মুকুল এসেছিল। মানুষের কাঁচা বাড়িঘর ভেঙে গেছে এবং বেশ কিছু ঘরের টিনের ছাউনি উড়ে যায়। কয়েকটি রাস্তার ওপর গাছ উপড়ে পড়ায় কয়েক ঘণ্টা যোগাযোগ ব্যাহত হয়। এ ছাড়া সবজি, গম, সরিষা ও ভুট্টাখেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
গাইবান্ধা: ঝড়ে শতাধিক ঘড়বাড়ি বিধ্বস্ত ও পাঁচ শতাধিক গাছপালা উপড়ে গেছে। বোরো ধান ও আমের মুকুলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষত সাদুল্যাপুর উপজেলার কামারপাড়া, নলডাঙ্গা, বনগ্রাম, রসুলপুর ও দামোদরপুর, গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা, রামচন্দ্রপুর, খোলাহাটি, কামারজানি ও লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন