একবার-দুবার নয়, তিন-তিনবার উদ্বোধন হয়েছে। প্রবেশমুখের ফটকে সাঁটা ব্যানারে লেখা রয়েছে সর্বশেষ তৃতীয় দফা উদ্বোধনের দিনক্ষণ। কিন্তু ভবনের প্রবেশপথের কলাপসিবল গেট তালাবদ্ধ। খোলা হয় না বলে সামনে অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং করা। এ অবস্থা সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র-আইসিইউ ভবনের।
শীতাতপনিয়ন্ত্রিত সুরম্য এ ভবনটির প্রথম দফা উদ্বোধন হয় বিগত চারদলীয় জোট সরকার আমলের শেষ দিকে, ২০০৬ সালের ৮ অক্টোবর। উদ্বোধন করেন তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা প্রয়াত এম সাইফুর রহমান। মহাজোট ক্ষমতাসীন হলে ২০০৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দ্বিতীয় দফায় উদ্বোধন করেন। গত বছরের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ২৭ ডিসেম্বর হাসপাতাল পরিদর্শনে এলে ফের উদ্বোধন হয় আইসিইউ ও ক্যাজুয়ালিটি ইউনিটের।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পেছনে ত্রিকোণ আকৃতির প্রবেশমুখের সুরম্য ওসমানী হাসপাতালের আলাদা পরিসরের ভবনটি ‘আইসিইউ ও ক্যাজুয়ালিটি ইউনিট’নামে পরিচিত। তিনতলা ভবনটি ৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে। ভবনের ভেতরে আইসিইউ ও ক্যাজুয়ালিটির যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনে ব্যয় হয় আরও প্রায় এক কোটি টাকা। ভবনের নির্মাণকাজ তদারককারী গণপূর্তের উপসহকারী প্রকৌশলী রফিক উদ্দিন নির্মাণব্যয়-সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করেন।
আইসিইউ ও ক্যাজুয়ালিটি ইউনিট সূত্র জানায়, দ্বিতীয় দফা উদ্বোধনের পর চালু না হওয়ার পেছনে কারণ, প্রতিস্থাপন করা যন্ত্রপাতি পরিচালন নিয়ে সমস্যা। লোকবল না থাকায় মূল হাসপাতালের নিচতলার একটি ওয়ার্ডে আইসিইউ ও ক্যাজুয়ালিটি ইউনিট পরিচালিত হচ্ছিল। লোকবল বরাদ্দ যাতে দ্রুত হয় সে জন্যই সর্বশেষ পর্যায়ের উদ্বোধন হয়েছে। উদ্বোধন করে স্বাস্থ্যমন্ত্রীও এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আশ্বস্ত করেন।
জানতে চাইলে, হাসপাতালের উপপরিচালক মো. আবদুছ ছালাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ মাসেই মন্ত্রণালয়ে হাসপাতালের পরিচালকদের একটি বৈঠক হবে। সেখানে চালুর ব্যাপারটি নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। আশা করি, এরপর এটির সুরাহা হবে।’
দফায় দফায় উদ্বোধন সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে শুরুর পর্যায়ে শুধু ভবন উদ্বোধন হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। নির্মাণের প্রায় আট বছর পরও চালু না হওয়া প্রসঙ্গে উপপরিচালক বলেন, ‘কিছু লোকবল ও সরঞ্জামের অভাব ছিল। শিগগিরই এগুলো পূরণ হবে। এরপর পুরো কার্যক্রম শুরু হবে।’তখন আবার উদ্বোধন হবে কি না জানতে চাইলে, তিনি বলেন, ‘আপনি পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেন। আমি কিছু বলতে পারব না।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন