default-image

তিন বছর ধরে ঝিনাইদহের গান্না বাজার থেকে আলাইপুর পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সড়কটিতে ইটের খোয়া বিছিয়ে রাখা হয়েছে। এতে ধুলার কারণে সড়কের দুই পাশের ফসলের খেত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ লোকজন।
ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ শহরের নিমতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে গান্না বাজার হয়ে ডাকবাংলা বাজার পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার সড়কটি জেলা সড়ক বলে পরিচিত। আশির দশক পর্যন্ত এটি ইট বিছানো ছিল। এরপর পিচ ঢালা হয়। পরে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হলে ২০১১ সালে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সওজের এক কর্মকর্তা জানান, ২১ কিলোমিটার সড়কটি তাঁরা তিন ভাগে ভাগ করেন। সাত কোটির বেশি টাকা করে মোট ২৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রেখে ২০১১ সালের জুন মাসে দরপত্র আহ্বান করা হয়। তিনজন ঠিকাদার তিন গুচ্ছে কাজ পান। ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে ঠিকাদারেরা কাজ শুরু করেন। শেষ করার কথা ২০১৩ সালের জুন মাসে। ডাকবাংলা থেকে গান্না বাজার পর্যন্ত কাজ যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারেরা সম্পন্ন করেন। কিন্তু সদর উপজেলার গান্না বাজার থেকে কালীগঞ্জ উপজেলার আলাইপুর পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সড়কের কাজ করছেন ঠিকাদার শাহিনূর আলম। তাঁর ইটের খোয়া বিছানোর কাজ শেষ করে পিচ দেওয়ার কথা। কিন্তু গত তিন বছরেও শেষ হয়নি কাজটি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষক ও পথচারীরা।
গান্না গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন দুই বছর আগেও ৫০ শতক জমি চাষ করে মসুর ডাল পেয়েছেন ছয় থেকে সাত মণ। ধুলার কারণে গত দুই মৌসুমে পাচ্ছেন তিন থেকে চার মণ। সিংদহ গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম তাঁর এক বিঘা জমিতে মৌসুমে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মরিচ পেয়েছেন। গত দুই মৌসুমে পেয়েছেন মাত্র ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার। রাস্তার ধুলার কারণে খেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ফলন অর্ধেকে নেমে এসেছে।
আলাইপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, তিনি কলার শুকনা পাতা দিয়ে তাঁর একটি খেত আড়াল করে রেখেছেন। অনেকে বাড়ির চারপাশে ধুলা ঠেকাতে নানা পথ অবলম্বন করেছেন।
রামনগর মোড়ের এক ব্যবসায়ী বলেন, ধুলার কারণে তাঁরা দোকানেও বসতে পারেন না। সকালে আর সন্ধ্যায় দোকান খুলে বসেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন জানান, গাছের পাতায় একটা সূক্ষ্ম ছিদ্র থাকে, যাকে পত্ররন্ধ্র বলে। যার মাধ্যমে গাছ পানি বাষ্পাকারে বের করে দেয়। ধুলার কারণে এটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে গাছ বেড়ে উঠতে পারে না। তা ছাড়া ধুলার কারণে গাছ ক্লোরোফিল তৈরি করতে পারে না। এতে গাছের খাদ্য গ্রহণ ব্যাহত হয়।
সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম জানান, ঠিকাদারকে ইতিমধ্যে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে দ্রুত কাজ শেষ করতে। না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঠিকাদার শাহিনূর আলম জানান, নানা জটিলতায় তিনি কাজটি শেষ করতে পারেননি। তবে দ্রুত কাজ শেষ করবেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন