default-image

‘মুক্তমনা’ সম্পাদক ও লেখক অভিজিৎ রায়ের হত্যার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন সংস্কৃতিকর্মী ও সচেতন নাগরিকেরা। দেশের বিভিন্ন স্থানে গতকাল শুক্রবার মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন তাঁরা। এসব সমাবেশ থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।
আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদকদের পাঠানো খবর:
গতকাল বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের প্রেসক্লাব চত্বরে সর্বস্তরের সংস্কৃতিকর্মী ও সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন ও সমাবেশ করা হয়। এতে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, রাজনীতিক, সংস্কৃতিকর্মী, ব্লগার ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, যখন একাত্তরের ধর্মান্ধ রাজাকার আলবদরদের শাস্তি হচ্ছে, তখন তাদের দোসরেরা এ দেশের মুক্তচিন্তার মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। হত্যা করছে একের পর এক প্রগতিশীল মুক্তচিন্তার মানুষকে।
সমাবেশে কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, ‘একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে আমরা একাত্তরে যুদ্ধ করেছি। কিন্তু ধর্মান্ধ গোষ্ঠী বারবার আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে, আমাদের প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক মানুষকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। ধর্মান্ধ যুদ্ধাপরাধীদের যখন শাস্তি হচ্ছে, তখন তাদের উত্তর প্রজন্ম মুক্তচিন্তার মানুষকে হত্যা করছে।’
বক্তারা বলেন, এর আগে একইভাবে সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ, ব্লগার রাজীবকে হত্যা করা হয়েছে। এই তালিকায় অভিজিৎ যোগ হলো। আমরা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
সমাবেশে খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি অধ্যাপক এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম, গণজাগরণ মঞ্চ চট্টগ্রামের সদস্যসচিব চন্দন দাশ, উদীচী চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শীলা দাশগুপ্ত, সহসভাপতি সুনীল ধর, প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার প্রমুখ বক্তব্য দেন।
এদিকে সিলেট নগরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ফোরাম, সিলেট। বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি কোর্ট পয়েন্ট ঘুরে শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী যে কায়দায় লেখক হুমায়ুন আজাদকে আক্রমণ করেছিল, একই কায়দায় লেখক অভিজিৎ রায়ের ওপর আক্রমণ হয়েছে। খুনিদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলা হয়, চাপাতির আঘাতে ব্যক্তি অভিজিৎ রায়কে হত্যা করা যেতে পারে, কিন্তু তাঁর আদর্শ, চেতনাকে কখনো হত্যা করা যাবে না। বরং অভিজিৎ রায়ের চেতনা, তাঁর লেখালেখি আরও ছড়িয়ে পড়বে।
গণজাগরণ মঞ্চ সিলেটের মুখপাত্র দেবাশীষ দেবুর সঞ্চালনায় সমাবেশে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক রজতকান্তি গুপ্ত, ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলা সংসদের সভাপতি সহিদুজ্জামান পাপলু, জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি রাশেদুল ইসলাম, প্রগতিশীল ছাত্র জোটের প্রণব পাল, অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট রাজীব রাসেল, একুশ তাপাদার, অসীম দাশ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
রংপুর প্রেসক্লাব চত্বর থেকে বিকেল পাঁচটায় বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে নগরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপর জাহাজ কোম্পানি মোড়ের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট রংপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান। বক্তব্য দেন বাসদের পলাশ কান্তি নাগ, লেখক ও গবেষক মিজানুর রহমান, ছাত্র ফ্রন্টের আবু রায়হান বকসি প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন