তীব্র শীতে সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলায় দুস্থ ও দরিদ্র মানুষেরা দুর্ভোগ পোহালেও মাস খানেক আগে দুস্থ মানুষের জন্য বরাদ্দ ৫৬৩টি কম্বল এখনো বিতরণ করা হয়নি।
পরিবহন খরচ বাবদ অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের গুদামে পড়ে রয়েছে এগুলো।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় (পিআইও) ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে চলতি অর্থবছরে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের শীতার্ত, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য ৫৬৩টি কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়। উপজেলায় পাঁচ সহস্রাধিক অতিদরিদ্র পরিবার রয়েছে।
গত ৬ নভেম্বর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি চলতি মাসের প্রথম দিকে ধরমপাশা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে পৌঁছে। কিন্তু কম্বলগুলো পরিবহন বাবদ কোনো অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় সেগুলো জেলা শহরের গুদামে পড়ে আছে। উপজেলায় নিয়ে বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
ধরমপাশা সদর ইউনিয়নের নোয়াবন্দ গ্রামের বিধবা রুবিয়া বেগম (৫৫) বলেন, ‘আমার নিজের কুনু ঘরদোর নাই। মাইনসের বাড়িত ডেরা বাইন্দা কুনুরহমে থাহি। রাইতের বেলা ঠান্ডায় ঘুমাইতাম হারি না।’
ধরমপাশার পিআইও পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বিশ্বম্ভরপুরের পিআইও মানিক মিয়া বলেন, ‘কম্বলগুলো পরিবহন করে উপজেলা কার্যালয়ে আনতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অর্থ বরাদ্দ পাইনি। তাই এগুলো জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের গুদামেই রেখে আসতে হয়। তবে আগামী সপ্তাহে সেগুলো নিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’
পাইকুরাটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ফেরদৌসুর রহমান বলেন, সময়মতো কম্বল না পেয়ে এখানকার শীতার্ত দরিদ্র মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কম্বলগুলো বিতরণে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, বরাদ্দ পাওয়া কম্বলগুলো জেলা থেকে এনে বিতরণ করার যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা বলেন, যত দ্রুত সম্ভব কম্বলগুলো জেলা গুদাম থেকে নিয়ে বিতরণ করতে সংশ্লিষ্ট পিআইওকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিবহন বাবদ তাৎক্ষণিক অর্থ বরাদ্দ দিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হলেও কোনো সদুত্তর মেলেনি।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন