বান্দরবানের থানচি উপজেলার নাফাকুম ঝরনাসহ দুর্গম এলাকায় চলতি বর্ষা মৌসুমের শেষ পর্যন্ত কোনো পর্যটক যেতে পারবেন না। পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করেই উপজেলা পরিষদ ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল বুধবার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। থানচি উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে উপজেলার খরস্রোতা সাঙ্গু নদ ও রেমাক্রি খালে চলাচল নিরাপদ নয়। দুর্গম তিন্দু, রেমাক্রি, মদক ও রেমাক্রি খালের নাফাকুমের ঝরনায় বর্ষা মৌসুমে চলাচলের সময় মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনায় পড়েন পর্যটকেরা। কারণ, সাঙ্গু (স্থানীয়ভাবে শঙ্খ নদ) নদের খরস্রোতের মধ্য দিয়ে সেখানে যেতে হয়। সর্বশেষ ৮ জুন নাফাকুমের ঝরনার প্রবল স্রোতে পা পিছলে পড়ে মইনুল ইসলাম নামে ঢাকার একজন চিকিৎসক নিখোঁজ হন। তিন দিন পর তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত বছর তিন্দু এলাকায় স্রোতের তোড়ে নৌকা ভেঙে একজন খ্রিষ্টান ধর্মযাজক নিখোঁজ হন। নয় দিন পর তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ আবু ছালেহ জানান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকেরা থানচিতে আসেন। এরপর তাঁরা কাউকে না বলেই সাঙ্গু নদের উজানে চলে যান। সংকীর্ণ পাথরের আস্তরণের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর স্রোতে কেউ কোথাও গিয়ে বিপদে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদ পাওয়া বা উদ্ধার করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0