বিজ্ঞাপন

দিবস উপলক্ষে এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) দুলাল কৃষ্ণ সাহা প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনার কারণে একটা শ্রেণি কর্মহীন হয়ে যাচ্ছে। আবার একটা শ্রেণি নতুন কর্মের সন্ধান পেয়েছে। আগে আমাদের অনলাইন ফিল্ড ছিল না। একই সঙ্গে ই-কমার্স ডেভেলপড হয়েছে। আমাদের বার্তা হচ্ছে, যুবক যাঁরা আছেন, তাঁরা যেন নিরাশ না হন। অন্তত যেকোনো একটা পেশায় দক্ষ হোন। তাহলে তাঁদের চাকরির পেছনে ঘুরতে হবে না।’

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারের সমমানের সনদ দেবে এনএসডিএ

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে যাত্রার পর এনএসডিএ প্রায় আড়াই বছর অতিক্রম করছে। এ সময়ে তারা বিধিমালা ২০২০ করেছে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি-২০২১ এবং জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা ২০২১-২৫ প্রণয়নের কাজ করছে। এর বাইরে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ১৬০টি প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন প্রদান করেছে। নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলো যাঁদের প্রশিক্ষণ দেবে, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেই ব্যক্তিদের সনদ দেবে এ কর্তৃপক্ষ। পুরো কোর্স সম্পন্ন করলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারের সমমানের সনদ দেবে তারা। তবে এখনো প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করতে পারেনি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলো।

কারিগরি শিক্ষার সনদ দেওয়ার মতো সরকারের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, তাহলে আলাদা করে আরেকটি সনদ দানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন পড়ল কেন, তা জানতে চাইলে এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান দুলাল কৃষ্ণ সাহা বলেন, ‘আমাদের একমাত্র লক্ষ্য দক্ষতা উন্নয়ন। কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কাভার করতে পারেনি দেখেই সরকার নতুন একটা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের দেশে দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজন আছে। অবশ্যই আমরা অত দক্ষ না। যার জন্য বিদেশিরা আমাদের দেশ থেকে প্রচুর টাকা নিয়ে যায়। তাই আমাদের এমন প্রতিষ্ঠানের আরও দরকার আছে।’

বিদেশিদের কোন কোন খাতে চাকরির জন্য চড়া দামে নিয়ে আসতে হয়, তা চিহ্নিত করে সেসব খাতে দেশের ছেলেমেয়েদের দক্ষ করে তুলতে হবে। তবে বিষয়গুলো নিয়ে সরকার চিন্তা করে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন এই শিক্ষাবিদ।

default-image

এনএসডিএর শিক্ষা কার্যক্রম

এনএসডিএর কর্মকর্তারা বলছেন, দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, সাইবার সিকিউরিটি, পেইন্টিং, ডোমেস্টিক ওয়ার্ক, ড্রাইভিংয়ের মতো বিষয়ে ৬১টি কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড বা সিলেবাস তৈরি করবে। শিক্ষকদের পড়ানোর জন্য ৬১টি কারিকুলাম তৈরি করা হবে। এখন পর্যন্ত তারা ১১টি কারিকুলাম প্রণয়ন করতে পেরেছে।

একটা পেশায় ছয়টি লেভেল থাকবে। প্রথম লেভেল অতিক্রম করার জন্য ৩৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ নিতে হবে। বাকি পাঁচটি লেভেলের প্রতিটির জন্য ২৭০ ঘণ্টা করে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। ছয়টি লেভেলে প্রশিক্ষণ নিলে প্রশিক্ষণার্থীরা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার বা সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের সমান মর্যাদা পাবেন।

দুলাল কৃষ্ণ সাহা বলছেন, প্রশিক্ষণের মান বজায় রাখতে তাঁদের নজরদারি থাকবে।

দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ ৫৫ জন অস্থায়ী লোকবল রয়েছে। সংস্থাটির কার্যক্রম চালানোর জন্য আপাতত ৮৮ জন স্থায়ী জনবল প্রয়োজন। সম্প্রতি নিয়োগ বিধিমালার অনুমোদন পেয়েছে এনএসডিএ। তাদের নিজস্ব জনবল নিয়োগের কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

বিচ্ছিন্নভাবে এগোচ্ছে দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছে। একই কাজ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের উদ্যোগে করছে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এর বাইরে প্রকল্পের মাধ্যমেও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত আছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অধীন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) গত জুনে এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ ক্রিয়েশন অ্যান্ড স্কিল ডেভেলপমেন্ট নামে একটি প্রকল্প শেষ করেছে। দক্ষতা উন্নয়নে বিক্ষিপ্তভাবে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সদ্য সমাপ্ত প্রকল্পটির পরিচালক আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের এ প্রকল্পের আওতায় উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে মোট ৪ হাজার ৩৩৭ জন। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে ৩৭ হাজারের ওপরে। এই উদ্যোক্তারা বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ করেছেন ১ হাজার ৯৪ কোটি টাকা। আইসিটি, কৃষি, চামড়া, তৈরি পোশাক, হ্যান্ডিক্রাফট, মাছসহ মোট ২৩টি খাতে বিনিয়োগ করেছেন তাঁরা।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন