default-image

চট্টগ্রামে পাল্টা কমিটি গঠনের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে দক্ষিণ জেলা বিএনপির বিরোধ। এবার উত্তর জেলাও সেই পথে হাঁটছে। কমিটি থেকে বাদ পড়ার শঙ্কা থেকে আগেভাগেই  পাল্টা কমিটি গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আহ্বায়ক কমিটিতে স্থান না পাওয়া নেতাদের অনুসারীরা।

দলের নেতা-কর্মীদের একটি অংশের বিরোধিতার মুখে গত ২৩ ডিসেম্বর উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক করা হয় দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকারকে। সদস্যসচিব, যুগ্ম আহ্বায়ক কাউকে রাখা হয়নি। ৪৩ সদস্যের ওই কমিটিতে জায়গা হয়নি সাবেক আহ্বায়ক আসলাম চৌধুরীরও। নাশকতার অভিযোগে হওয়া মামলায় তিনি এখন কারাগারে। এ ছাড়া বাদ পড়েন সাবেক চাকসু ভিপি ও উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন, বেলায়েত হোসেন, মাহাবুবুল আলম, শাকিলা ফারজানা, ফজলুল হক, সৈয়দ মোস্তফা মাসুমসহ প্রায় ২৫ জন নেতা।

default-image

নতুন আহ্বায়ক  গোলাম আকবর খোন্দকার জানিয়েছেন, ২৭ বছর উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ নানা দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন সবাইকে নিয়ে দলের জন্য কাজ করবেন।

দক্ষিণ জেলার বিক্ষুব্ধ পক্ষের নেতারা পাল্টা কমিটি ঘোষণা সময় অভিযোগ তোলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে। ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে দক্ষিণ জেলা বিএনপির পাল্টা কমিটি ঘোষণার সময় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান অনৈতিক সুবিধা আদায়ের মাধ্যমে দলের স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে কমিটি ঘোষণা করেছেন।’ সংবাদ সম্মেলনে তিন উপজেলা ও তিন পৌরসভার পাল্টা কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর আগে পাঁচ উপজেলা ও চার পৌরসভায় আহ্বায়ক কমিটি গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ঘোষণা করে দক্ষিণ জেলার বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি।

বিজ্ঞাপন

পাল্টা কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ১০ জানুয়ারি দক্ষিণের তিন নেতা যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস, সদস্য শেখ মহিউদ্দিন ও লিয়াকত আলীকে বহিষ্কার করা হয় কেন্দ্র থেকে।

দলীয় সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ২৬ এপ্রিল আসলাম চৌধুরীকে আহ্বায়ক এবং কাজী আবদুল্লাহ আল হাসানকে সদস্যসচিব করে উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। পরে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ২০১৬ সালের ১৫ মে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হন আহ্বায়ক আসলাম চৌধুরী। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে মারা যান আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল হাসান। তাঁর মৃত্যুর পর নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।

default-image

উত্তরে রয়েছে সাতটি উপজেলা। এখানে সাতটি সংসদীয় আসন রয়েছে, যার কোনোটিতেই গত নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি বিএনপি ও এর শরিক দলের প্রার্থীরা। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি দলের যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, যুদ্ধাপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী, প্রয়াত সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে শাকিলা ফারজানার অনুসারী হিসেবে বিভক্ত হয়ে দলের কর্মসূচি পালন করে আসছে। নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে গত নভেম্বর মাসে বিবদমান গ্রুপগুলো এক হয়ে যায়। তাদের দাবি ছিল, উত্তর জেলা বিএনপির একজন আহ্বায়ক, সাতটি উপজেলায় সাতজনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা; যাতে সামনের আন্দোলনে কমিটি ভূমিকা রাখতে পারে। গোলাম আকবরকে আহ্বায়ক না করায় বিরোধের মুখেও তাঁকে আহ্বায়ক করে কমিটি ঘোষণা হওয়ায় দলে নতুন করে বিভক্তি দেখা দেয়। নেতা-কর্মীদের একটি অংশ নিয়ে বর্তমান আহ্বায়ক একদিকে, আরেক দিকে বাকিরা।

default-image

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য নাজিম উদ্দিন কারাবন্দী আসলাম চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ক্ষোভে ফুঁসছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। দলে বিভক্তি যাতে না হয়, কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের সে বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। হাইকমান্ড ব্যবস্থা না নিলে পাল্টা কমিটি এড়ানো কঠিন হবে।

অভিন্ন মন্তব্য জানালেন গিয়াস উদ্দিন কাদেরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য বেলায়েত হোসেন। তিনি বলেন, ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে কীভাবে সামনের দিনে আন্দোলন হবে। যাঁরা রাজপথে ছিলেন না তাঁদের দিয়ে কী হবে।

দক্ষিণের মতো উত্তর জেলায় পাল্টা কমিটি গঠনে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বড় দলে আহ্বায়ক কমিটিতে সবাইকে রাখার সুযোগ নেই। তারপরও বিষয়টি দেখছি।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন