default-image

সাত বছরের শিশুটির জন্ম ও বেড়ে ওঠা সমর রোজারিওর সামনেই। শিশুটির বাসা লাগোয়া জায়গায় দোকান করেছেন তিনি। সে দোকানের আশপাশে খেলাধুলা করত মেয়েটি। জরুরি প্রয়োজনে কোথাও যেতে হলে তাকেই দোকানে বসিয়ে রেখে যেতেন সমর। সেই শিশুকেই ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

ধর্ষণের এই ঘটনা ঘটে গত রোববার সাভারে। এরপর পেরিয়ে গেছে চার দিন। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে এই বিষয়ে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে জানানো হয়েছে। ক্ষুব্ধ তরুণেরা সোমবার সকালে বিচার চেয়ে দোকানে হাতে লেখা পোস্টার সেঁটেছেন, ‘এইটা ধর্ষকের দোকান, বিচার চাই’।

অবশেষে গতকাল বুধবার বিকেলে পুলিশ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আল্পনা রোজারিওর বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। শিশুটিকে নিয়ে তার মা রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজের ওয়ান–স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের পথে রওনা হন।

বিজ্ঞাপন

শিশুটির একজন স্বজন বুধবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা দিন এনে দিন খান। মামলা করলে খরচ জোগাবে কে—এই চিন্তায় সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না। তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালে শিশুটির জন্ম। তাকে পেটে নিয়ে মা যখন নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতেন, তখন সমর ছিলেন মায়ের সহকর্মী। সমর রোজারিওকে তাঁরা পরিবারের একজন মনে করতেন। ঘটনার পরপরই এলাকার লোকজন বলাবলি করছিল যে শিশুটির কিছু একটা হয়েছে। রক্তক্ষরণের বিষয়টি কারও কারও চোখেও পড়েছে। পরে তাঁরা ঘটনাটি জানতে পারেন। ধর্ষণের শিকার শিশু তাদের বলে, দোকানের সাটার ফেলে তাকে ‘ব্যথা’ দিয়েছেন সমর। তার গলা চেপে ধরে বলেছেন, কাউকে কিছু বললে গরম পানিতে ঝলসে দেবেন। তাই সে কাউকে কিছু বলেনি।

স্থানীয় একজন বাসিন্দা প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর স্ত্রী তাঁকে জানান, সমর রোজারিও ধর্ষণের দুই দিন আগে থেকেই শিশুটির সঙ্গে অন্যায় আচরণ করছিলেন। রোববার ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এলাকার অনেকেই শিশুটিকে রক্তাক্ত হতে দেখে। প্রথম দিনে গ্রাম্য সালিস বসে। সালিসে সমর ধর্ষণের কথা ‘স্বীকার করেন’। সালিসের আয়োজকেরা বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় সালিস করার সুযোগ নেই। পুলিশে খবর দিতে হবে। পরদিন আবারও সালিস বসে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, আসামিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপরও পুলিশকে জানানো হয়নি। বুধবার সকালে দুই দল সাংবাদিক এলাকায় আসেন। তাঁরা এসে খোঁজখবর নিতে শুরু করলে বিকেলের দিকে পুলিশ আসে।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, সাভার ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি আল্পনা রোজারিও শুরু থেকেই বিষয়টি জানতেন। রাতে তিনি ফোন ধরেননি। শিশু ধর্ষণের খবর জেনেও পুলিশকে জানাননি কেন, এমন প্রশ্ন লিখে খুদে বার্তা পাঠিয়েও তাঁর কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সর্দার প্রথম আলোকে বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিষয়ে তাঁরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করেন। চার দিন আগের ঘটনা হলেও কেউ তাঁদের জানায়নি। জানামাত্রই তাঁরা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর আগে বেশ কয়েকটি ধর্ষণের ঘটনায় যাঁরা আপস–মীমাংসা করার চেষ্টা করেছেন, তাঁদের আসামি করা হয়েছে। এখানে কী ঘটেছে খোঁজ নিয়ে সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন