বাচ্চু মিয়া যেখানে কাজ করেন, সেখানে ছোট দুটি কক্ষে বনানী সুপারমার্কেটের চারটি দরজি দোকান—রূপ সিঙ্গার, স্টার, চাঁদ ও সতীশ টেইলার্সের হয়ে আটটি সেলাই মেশিনে আটজন কাজ করেন। এর পাশে আরও ছয়টি কক্ষে ১৪টি সেলাই মেশিনে কাজ করছেন অন্য দরজিরা। করোনাকালের দুই বছরের খরা কাটিয়ে এবার একটি জমজমাট ঈদ আয়োজনের প্রত্যাশা দরজিবাড়িগুলোতে।

সতীশ টেইলার্সের দরজি মোহাম্মদ সারোয়ার বলেন, ‘একেকটা থ্রি-পিস বানাতে এক হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। আমরা ২৫০ টাকা করে পাই। রোজার আগে দুটি করে থ্রি-পিস বানাতাম। এখন চারটি বানাচ্ছি। এর বেশি পারা যায় না।’ টানা কাজ করতে কষ্ট হয় না? জানতে চাইলে বলেন, ‘কষ্ট তো হয়ই। তবে ঈদ সামনে রেখে রোজগার তো বেশি করতে হবে। তা ছাড়া অনেক অর্ডার আসছে, বেশি সময় না দিলে কাজ শেষ করতে পারব না।’

বাচ্চু মিয়া জানান, অন্যদের পোশাক বানানোর এক ফাঁকে রোজার শেষ নাগাদ নিজের কিশোরী দুই মেয়ের জন্য থ্রি-পিস বানিয়ে মাদারীপুরে গ্রামের বাড়িতে যাবেন ঈদ উদ্‌যাপনে।

বনানী সুপারমার্কেটের ৮ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করে দোতলা ও তিনতলায় গিয়ে দেখা গেল, সেখানে সারি সারি দরজির দোকান। মার্কেটের তিনতলায় রাজধানী টেইলার্সের মাস্টার হাফিজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এখন প্রতিদিন ২০ হাজার টাকার অর্ডার পাচ্ছেন। ১৫ রোজার পর থেকে আর অর্ডার নেবেন না। ভোক্তারা দোকানে এসে পোশাকের মাপ দিয়ে যান। পরে তাঁরা সেই মাপ অনুযায়ী পোশাক কেটে কারখানায় পাঠিয়ে দেন তৈরির জন্য।

সেখানে মারিয়া টেইলার্সের একজন কর্মী হাবিবুর রহমান জানান, তাঁরা বাসায় গিয়েও অর্ডার নিয়ে আসেন। পোশাক তৈরি হয়ে গেলে বাসায় গিয়ে পৌঁছে দেন। তিনি গতকাল গুলশানের একজনের কাছ থেকে সাত হাজার টাকার থ্রি-পিস বানানোর অর্ডার এনেছেন।

রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে অবস্থিত প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টারের দোতলায় রয়েছে টিপু হোসেনের নিজস্ব দরজির দোকান ‘স্কয়ার’। তিনি নিজে মাস্টার। প্রথম আলোকে বলেন, অন্য সময়ে দিনে ১০টি থ্রি-পিস বানানোর অর্ডার পেতেন। শবে বরাতের পর থেকে অর্ডার পাচ্ছেন ১৪-১৫টি করে। তিনি প্রতি থ্রি-পিসে ন্যূনতম ৮০০ টাকা নেন। কেউ বাড়তি নকশা করতে বললে মজুরি এক হাজার টাকা পর্যন্ত নেন।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার হাভেলি কমপ্লেক্সের তিনটি দোকানে গিয়ে দেখা গেল, ব্যস্ততা শুরু হয়েছে। লাবণ্য বুটিকস অ্যান্ড টেইলার্স নামের একটি দোকানের মাস্টার মো. জুয়েল বলেন, পাঁচ রোজা থেকে অর্ডার আসা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক দিনেই ২০টি অর্ডার পেয়েছেন। ১৫ রোজার পর আর অর্ডার নিতে চান না তিনি।

শুধু নারীরাই নন, পুরুষেরাও ঈদ সামনে রেখে নিজেদের প্রয়োজনমতো মাপ অনুযায়ী পোশাক বানাচ্ছেন। বনানী বাজারে এনআই টাওয়ারে অ্যাডভান্স টেইলার্সে গিয়ে দেখা যায়, বড় পরিসরের দোকানটি থেকে শার্ট-প্যান্টের কাপড় কিনে সেখানেই বানাতে দিচ্ছেন কেউ কেউ। তেমন একজন বনানীর বাসিন্দা শেখ মঞ্জুর মোর্শেদ। স্ত্রী মনোয়ারা মহসিন ছিলেন সঙ্গে। তাঁরা জানালেন, দুটি ফুলহাতা শার্ট ও একটি হাফহাতা শার্ট বানাতে দিলেন। ঈদ উপলক্ষেই বানাচ্ছেন। দোকানের ব্যবস্থাপক মো. আলী বলেন, শার্ট ৫০০ এবং প্যান্ট বানাতে ৬০০ টাকা নেন তাঁরা। আর কয়েক দিনের মধ্যে অর্ডার আরও বাড়বে বলে তাঁর আশা।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন