লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নে ১০ বছর ধরে বৈধভাবে জমি কেনাবেচা বন্ধ রয়েছে। সরকারি নির্দেশে এখানে নামজারি বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এতে জমির মালিকেরা বিপদে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী জমির মালিকেরা জানান, দহগ্রাম ইউনিয়নে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহল। ওই ছিটমহলের দুটি মৌজায় প্রায় ৪ হাজার ৬১৪ একর জমি আছে। ইংরেজ শাসনামলে ১৯৪০ সালে দহগ্রাম ইউনিয়নের জমি সিএস রেকর্ডভুক্ত হয়। ১৯৫৫ সালে এসব জমি এসএ রেকর্ডভুক্ত করা হয়। কিন্তু দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহলের ওই দুটি মৌজার ভলিউম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলায় ভূমি কার্যালয়ে রয়ে যায়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯২ সালে ভারতের কাছ থেকে তিনবিঘা করিডোর পাওয়ার পর দহগ্রাম-আঙ্গরপোতার সাড়ে ১৪ হাজার অধিবাসীর ৪৭ বছরের অবরুদ্ধ জীবনের অবসান হয়। ১৯৯০ সালে ভূমি হাল জরিপ (আরএস) শুরু হলে পাটগ্রাম উপজেলায় ভূমি জরিপ অফিস স্থাপন করে জরিপের কাজ শুরু করা হয়।
পাটগ্রাম উপজেলা ভূমি জরিপ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৩-৯৪ সালে ছিটমহলের দুটি মৌজার জমি আরএস রেকর্ডভুক্ত হয়। ২০১২ সালে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে ভূমি মালিকদের আরএস রেকর্ডের নকশা ও পর্চা দেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয় ভূমি অফিস খাজনা (ভূমি উন্নয়ন কর) না নেওয়ায় ২০০৫ সাল থেকে নামজারি বন্ধ রয়েছে। এই কারণে দহগ্রাম ইউনিয়নের জমির দলিল নিবন্ধন বন্ধ রয়েছে। ২০০৫ সালের আগ পর্যন্ত আগের রেকর্ড দিয়ে নামজারি করে দলিল নিবন্ধন করা যেত। কিন্তু ২০০৫ সালে সরকার এক প্রজ্ঞাপন জারি করে নামজারি বন্ধ করে দেওয়ায় দলিল নিবন্ধন প্রক্রিয়াও বন্ধ হয়ে যায়।
দহগ্রাম ইউনিয়নের ভূমি দলিল নিবন্ধনপ্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে ছিটমহলবাসী বারবার দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু তাতে কোনো ফল না পাওয়ায় তারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ টি এম মমিনের কাছে ভূমি নিবন্ধনের সুযোগ সৃষ্টিসহ বিভিন্ন দাবিতে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে।
দহগ্রাম ইউনিয়নের আজিজার রহমান বলেন, ‘জমি আমাদের। সিএস রেকর্ড বাপ-দাদার নামে। তার পরও ওই জমি আমরা নিয়ম অনুযায়ী বেচাকেনা করতে পারছি না।’ ময়নুল হক বলেন, ‘আরএস রেকর্ড চূড়ান্ত হয়েছে। পর্চা, খতিয়ান ও নকশা পেয়েছি। এর পরও আমরা এসব জমি বেচাকেনা করতে পারছি না। দলিল নিবন্ধনের পরিবর্তে ২০০-৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে হস্তান্তর করতে হচ্ছে।’
পাটগ্রাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ টি এম মমিন জানান, ইতিমধ্যে আরএস রেকর্ডের নতুন ভলিউম বই এসেছে। নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর নেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে। শিগগিরই তা শুরু করা হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন