বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বিমান যে ভাড়া কমিয়েছে, তাতে প্রবাসীদের কোনো কাজে আসছে না। কারণ, গত পাঁচ মাস অনলাইনেও টিকিট বিক্রি বন্ধ আছে। তাই ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর কাছ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামীদের বেশি দামে টিকিট কিনতে হচ্ছে। অবশ্য বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে, মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রবাসীদের সুবিধার কথা চিন্তা করেই তারা নতুন করে ভাড়া কমিয়েছে।

বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতি সপ্তাহে আবুধাবীতে বিমানের চারটি ফ্লাইট, দুবাইতে সাতটি, দাম্মামে পাঁচটি, জেদ্দায় সাতটি ও রিয়াদে ছয়টি ফ্লাইট যায়।

টিকিটের দাম কমল যত
গতকাল মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) বিমান কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ঢাকা-জেদ্দা গন্তব্যে ইকোনমি ক্লাসের প্রতি টিকেটের একমুখী সর্বোচ্চ ভাড়া বর্তমানে ট্যাক্সসহ ৭২ হাজার ৪৫৫ টাকা, যা কমিয়ে ট্যাক্সসহ ৬৪ হাজার ৮২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা-রিয়াদ বা দাম্মাম গন্তব্যে ইকোনমি ক্লাসের একমুখী সর্বোচ্চ ভাড়া বর্তমানে ট্যাক্সসহ ৭০ হাজার ৭৫৮ টাকা, যা কমিয়ে ট্যাক্সসহ ৬৩ হাজার ১২৩ টাকা করা হয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উপমহাব্যবস্থাপক তাহেরা খন্দকারের স্বাক্ষর করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঢাকা-দুবাই গন্তব্যে ইকোনমি ক্লাসের একমুখী সর্বোচ্চ ভাড়া বর্তমানে ট্যাক্সসহ ৭৫ হাজার ৫০৮ টাকা থেকে কমিয়ে ট্যাক্সসহ ৬২ হাজার ৭৮৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা-আবুধাবী গন্তব্যে ইকোনমি ক্লাসের একমুখী সর্বোচ্চ ভাড়া বর্তমানে ট্যাক্সসহ ৬৭ হাজার ২৫ টাকা থেকে কমিয়ে ট্যাক্সসহ ৫৮ হাজার ৫৪২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বেশি ভাড়াতেই টিকিট কিনতে হবে
আজ বুধবার বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মতিঝিল, ফার্মগেট ও বলাকার প্রধান কার্যালয়ের সেলস সেন্টারে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে মধ্যপ্রাচ্যের ওই পাঁচ গন্তব্যের কোনো টিকিট নেই। মার্চ মাসের টিকিট আছে।
বিমানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা সত্য যে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোনো আসন ফাঁকা নেই। এখন ফেব্রুয়ারিতে টিকিট বুক দেওয়া কোনো যাত্রী যদি ভ্রমণ বাতিল করেন, তখন সেই টিকিট রিপ্লেস করে আমরা দিতে পারব। টিকিট সব বিক্রি হয়ে গেছে। ভাড়া কমানো হলেও প্রবাসীদের উপকার হবে না। কারণ, তাঁরা তো সরাসরি টিকিট কাটেন না, কাটেন ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে। ফলে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বেশি ভাড়া দিয়েই টিকিট কিনতে হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিমানের মুখপাত্র উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার বলেন, বিমানের ভাড়া কমানোর বিজ্ঞপ্তিতে বলা আছে, জানুয়ারি থেকে এবং আসন খালি থাকা সাপেক্ষে নতুন কমানো ভাড়ায় টিকিট পাওয়া যাবে। এ বিষয় ঠিক হতে আরও কিছুদিন লাগবে। পরে যাঁরা টিকিট কিনবেন, তাঁরা কমানো ভাড়াতেই কিনতে পারবেন।

মনে হচ্ছে, মুখে মুখে ঘোষণা
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে এয়ারলাইনসগুলোর টিকেটের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে ট্রাভেল এজেন্সির মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)।

আটাব জানায়, গত নভেম্বর পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যাত্রীদের টিকেটের দাম ছিল ৪০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার পর্যন্ত উঠেছে।

আটাব সভাপতি মনছুর আহামেদ কালাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিমানের ভাড়া কমানোর এই ঘোষণা মিডিয়ায় দেখেছি। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তো সব ফ্লাইট ক্লোজ, টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। আমরা বিমানের টিকিট বিক্রির জন্য জিডিএসে (গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম) নেটওয়ার্কে ঢুকে আসন পাচ্ছি না। জিডিএসে বিমানের ভাড়া কমানোর বিষয়ে কোনো ঘোষণা নেই। এটা মনে হচ্ছে, মুখে মুখে ঘোষণা।’

যথাসময়ে যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত হয়নি
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, গত ডিসেম্বর মাসে বিদেশে গিয়েছেন ১ লাখ ৬৪ হাজার প্রবাসী শ্রমিক। নভেম্বর মাসে গিয়েছে ১ লাখ ২ হাজার প্রবাসী। এর মধ্যে ৭৪ শতাংশ গিয়েছেন সৌদি আরবে। এই শ্রমিকদের বাড়তি ভাড়ায় টিকিট কাটতে হয়েছে।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, গতকাল বিমান যে ভাড়া কমানোর ঘোষণা দিয়েছে, সেটি যথাসময়ে যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সব টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর উপলক্ষে বিমানের উচিত ছিল মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়িয়ে ভাড়া নিয়ন্ত্রণে আনা। সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষও বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ভাড়া কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন