খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গত ১০ দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৩০ জন অন্তর্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিয়েছে। বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়েছে দুই শতাধিক শিশু।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা দীপঙ্কর ধর বলেন, ১ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে ৩০ জন শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্তর্বিভাগে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছে। বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়েছে দুই শতাধিক শিশু। জানুয়ারি মাসে ৬০ জন শিশু অন্তর্বিভাগে ভর্তি এবং তিন শতাধিক শিশু বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১০ জন শিশু ভর্তি আছে। সেখানে বামে কবাখালী এলাকার শুভ চাকমার (১০ মাস) মা জেকি চাকমা বলেন, ‘৬ ফেব্রুয়ারি থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি।’
বাঘাইহাট এলাকার ইমাম হোসেনের (৮ মাস) মা আকলিমা পারভিন বেগম, পুরাতন বাজার এলাকার জিহাদ হোসেনের (১ বছর) মা খায়রুন্নেছা বামে কবাখালীর অপরূপা চাকমার (১০ মাস) মা সঞ্জিতা চাকমাসহ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়া শিশুদের অভিভাবকেরা বলেন, গত কয়েক দিনের ঠান্ডা ও গরমে শিশুদের পাতলা পায়খানা ও বমি করার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এসেছেন। দু-তিন দিন ধরে এখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ত্রিলোব চাকমা বলেন, ঠান্ডা ও গরমের কারণে রোটা ভাইরাস দেখা দেওয়ায় শিশুরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। শিশুদের ডায়রিয়া থেকে রক্ষা করতে হলে অবশ্যই অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। শিশুদের উষ্ণতায়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মধ্যে রাখতে হবে। ফুটানো পানি পান করাতে হবে। কোনোভাবেই ঠান্ডা ও বাসি খাবার খাওয়ানো যাবে না।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন