সুনামগঞ্জে দুই বছর আগে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হলেও কর্তৃপক্ষ এখনো ভবনটি বুঝে নেয়নি। সেখানে কার্যালয়ের কার্যক্রমও শুরু হয়নি। ফলে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওই ভবনটি দুই বছর ধরে পড়ে আছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সুনামগঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হাওর অধ্যুষিত এ জেলায় হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১০ সালে। এরপর পাউবোর তত্ত্বাবধানে পৌর শহরের ষোলঘর এলাকায় একটি ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনতলা ভবন নির্মাণে ব্যয় হয় ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ২০১২ সালের শেষ দিকে ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয়। এরপর পাউবো ভবন বুঝে নেওয়ার জন্য হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি দেয়। কিন্তু দুই বছর হয়ে গেলেও তারা সেটি বুঝে নেয়নি।
পাউবোর স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, তাঁদের লোকবল কম। ভবনটি দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই। এ জন্য বারবার হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ডকে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তারা ভবনটি বুঝে নেয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাউবোর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, হাওর এলাকায় যেসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে বা হবে, সেসব প্রকল্পের দেখাশোনা ও বিশেষ তদারকির ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। হাওর এলাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজ করে। হাওরের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে, সেগুলো দেখাশোনা করা উচিত হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ডের। কিন্তু সেটি হচ্ছে না। হাওর এলাকার জনগোষ্ঠী ও এলাকার সার্বিক উন্নয়নের কথা বিবেচনা করেই হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা দরকার।
সুনামগঞ্জে ‘হাওরবাসী রক্ষায় নাগরিক উদ্যোগ’-এর আহ্বায়ক নির্মল ভট্টাচার্য বলেন, ‘সুনামগঞ্জকে আমরা হাওরের রাজধানী বলি। আমাদের দাবি ছিল হাওর উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কার্যালয় এখানে হবে। কিন্তু সেটি না হয়ে আঞ্চলিক কার্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এটিরও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আমরা চাই, দ্রুত আঞ্চলিক কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হোক।’
পাউবো সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী সাঈদ আহম্মদ বলেন, ‘ভবনের কাজ শেষ। আমরা চিঠি দিয়েছি। যেহেতু এখানে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো জনবল নেই, তাই তারা ভবনটি বুঝে নিচ্ছে না। এ কারণে আমাদেরও সমস্যা হচ্ছে। আমরাও জনবল-সংকটে ভুগছি। ভবনটির দেখাশোনার জন্য লোক দিতে পারছি না।’
জানতে চাইলে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক রুহুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ডের বিষয়ে খুবই আন্তরিক। আশা করি, লোকবল নিয়োগ হলেই আঞ্চলিক কার্যালয়ের কাজ শুরু হবে।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন