নেত্রকোনা ও নীলফামারীতে আজ সোমবার আলাদা দুটি হত্যা মামলার রায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অ্যাসিড সন্ত্রাসের দায়ে নেত্রকোনায় এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

নেত্রকোনা
মুক্তিযোদ্ধা কানু চন্দ্র তালুকদার (৫০) হত্যা মামলায় আজ নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. আবদুল হামিদ দুজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন মোহনগঞ্জ উপজেলার পাবই গ্রামের বকুল মিয়া (৪৮) ও বিরামপুরের মো. আনোয়ার হোসেন (২৭)। এ ছাড়া এ মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আরেক আসামি বাচ্চু ওরফে আবুনীর (৪২) বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার সং‌ক্ষিপ্ত বিবরণ ও আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, মোহনগঞ্জ উপজেলার উত্তর বিরামপুর গ্রামে মুসলিম ও হিন্দু দুটি পরিবারের ছেলে-মেয়ের বিয়েকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে ২০০৮ সালের ১০ মে রাতে বকুল ও আনোয়ার কানু চন্দ্র তালুকদারকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেন। এ ঘটনায় নিহত কানুর ছেলে কাঞ্চন চন্দ্র তালুকদার দণ্ড পাওয়া দুই ব্যক্তিসহ মোট তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৩১ জুলাই তাঁদের অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।

নেত্রকোনার অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মো. সাইফুল আলম প্রথম আলোকে জানান, মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া দুজনের মধ্যে বকুল মিয়া পলাতক।

এদিকে আজ একই আদালত অ্যাসিড সন্ত্রাসের দায়ে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া ব্যক্তি হলেন জেলার কেন্দুয়া উপজেলার পিজাহাতী গ্রামের মইজ উদ্দিনের ছেলে ইসলাম উদ্দিন। তিনি পলাতক।

নীলফামারী
স্ত্রী মিনুয়ারা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী রবিউল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রেজা মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন। দণ্ড পাওয়া রবিউলের বাড়ি জেলার সৈয়দপুর উপজেলার শ্বাসকন্দ ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে। স্ত্রী হত্যার পর থেকেই তিনি পলাতক।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের দুই বছর পর ২০০৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর রাতে স্ত্রী মিনুয়ারাকে হত্যা করেন রবিউল। পরদিন মিনুয়ারার বাবা নূর ইসলাম বাদী হয়ে রবিউলকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করলে আদালত আজ এ আদেশ দেন।

জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি অক্ষয় কুমার রায় বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন