বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আইন ও সালিশ কেন্দ্র আয়োজিত ‘শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা উঠে আসে। এতে আর্থিক সহযোগিতায় ছিল টেরেডেস হোমস নেদারল্যান্ডস।

সভায় জরিপের আরও তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়েছে, ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিশুদের মধ্যে প্রায় ২৪ শতাংশ মেয়েশিশু জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, মেসেঞ্জারে অনেকেই তাদের আপত্তিকর বার্তা, ছবি ও ভিডিও পাঠায়। প্রায় ১০ শতাংশ মেয়েশিশু বলেছে, আইডি হ্যাক করে ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে তাদের ব্ল্যাকমেল করা হয়েছিল। প্রায় ১২ শতাংশ ছেলেশিশু জানিয়েছে, তাদের আইডিও হ্যাক হয়েছিল। প্রায় ৩২ শতাংশ শিশু জানিয়েছে, তারা অনলাইনে নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিশু অধিকারবিষয়ক সংসদীয় ককাসের সভাপতি সাংসদ আরমা দত্ত বলেন, শিশুরা এখন বৈশ্বিক জগতে বিচরণ করে। তাদের সামাজিক ও মানসিক অবস্থা ও চিন্তাভাবনায় আগের প্রজন্মের সঙ্গে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। তাই আগের প্রজন্মের জীবনযাপনের সঙ্গে মিলিয়ে এই প্রজন্মকে দেখলে চলবে না। অনলাইনে নির্যাতনের বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে সামনের ১০ বছরের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। প্রতিকারের জায়গাটিতে জোর দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আসকের কর্মসূচি সমন্বয়ক অম্বিকা রায়। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ৭১৭ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। কোভিড মহামারির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষা কার্যক্রম ও যোগাযোগের জন্য অনলাইন-নির্ভর হয়ে পড়েছে। ফলে অনলাইনে শিশু যৌন নির্যাতনের ঝুঁকি বাড়ছে। এ অবস্থায় অভিভাবক ও শিক্ষকদের দায়িত্ব হচ্ছে, শিশুদের সৃজনশীল গেমসে উৎসাহিত করা। গেজেটের ক্ষতিকর দিক নিয়ে শিশুদের সঙ্গে আলোচনা করা। সরকারের উচিত, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক কনটেন্ট, নাটিকা, বিজ্ঞাপন সব চ্যানেলে প্রকাশ ও শিশুদের মানসিক বিকাশ–সম্পর্কিত কর্মসূচি ব্যাপকভাবে প্রচার করা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্ড রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) উপপরিচালক জিয়ান শাহ কবির বলেন, যখনই পর্নো ও জুয়ার সাইটের খোঁজ পাওয়া যায়, তখনই বিটিআরসি তা বন্ধ করে দেয়। তবে অনলাইনে শিশুর সুরক্ষার জন্য প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়াই বেশি প্রয়োজন। অভিভাবকদের আরও বেশি তথ্যপ্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন করতে হবে। প্রতিটি ডিভাইসে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল থাকে। ডিভাইসের সেই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্পর্কে অভিভাবকদের জানতে হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) প্রকল্প পরিচালক রায়হানা তাসলিম, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ শাহান আরা হুদা এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক শাকিল আহমেদ চৌধুরী। সভাটি সঞ্চালনা করেন আসকের নির্বাহী পরিচালক গোলাম মনোয়ার কামাল।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন