বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রধান অতিথি দীপু মনি বলেন, এই প্রদর্শনী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে উদ্বোধন করেছিলেন। তবে প্রদর্শনীটি তখন করোনা পরিস্থিতির কারণে সর্বসাধারণের দেখার সুযোগ হয়নি। এখন সবার জন্য প্রদর্শনীটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো।

প্রধান অতিথি বলেন, বঙ্গবন্ধু এবং মহাত্মা গান্ধীর রাজনৈতিক আদর্শের মধ্যে বহু মিল রয়েছে। এই দুই কিংবদন্তি নেতা দেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল জনগণের ক্ষমতায়নের ভেতর দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, অহিংসা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। তাঁরা বল প্রয়োগের শক্তি নয়, বরং সত্য প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে শক্তির অন্বেষণ করেছেন। এ কারণে এই দুই মহান নেতার অহিংসা এবং সম্প্রীতির আদর্শ সারা বিশ্বের কাছে প্রশংসিত ও অনুসরণীয় হয়ে উঠছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্ম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মহাত্মা গান্ধীর জীবন ও কর্ম জানার পাশাপাশি উপমহাদেশের রাজনীতি, মুক্তির সংগ্রাম, সাংস্কৃতিক বন্ধন; সর্বোপরি দুই দেশের ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে পারবে। এই সম্পর্ক আরও নিবিড় হবে।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে বন্ধুত্ব, তা কেবল ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিকভাবেই সম্পর্কিত নয়, রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত শুধু এক কোটি শরণার্থীকেই আশ্রয় দেয়নি, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে তাদের প্রায় ১১ হাজার নাগরিক জীবন উৎসর্গ করেছেন। এ কারণে উভয় দেশের এই ভ্রাতৃত্বের বন্ধন চিরকাল অটুট থাকবে।

default-image

সম্মানিত অতিথি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহাত্মা গান্ধীর জীবনের নানা ক্ষেত্রেও মিল রয়েছে। তাঁরা দুজনেই দেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছেন। জাতিকে পরাধীনতার নিগড় থেকে মুক্ত করেছেন। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং দুঃখজনকভাবে দেশেরই কিছু লোকের হাতে নির্মমভাবে প্রাণ দিয়েছেন। প্রদর্শনীটি এই দুই নেতার জীবনের নানা দিকে আলোকপাত করেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় হাইকমিশন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও শিল্পকলা একাডেমির সম্মিলিত উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনী ঢাকাসহ দেশের চারটি বিভাগে এবং ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রদর্শিত হবে। এর মাধ্যমে মহান এই দুই নেতার অবদান সম্পর্কে বিশ্ববাসী জানতে পারবে।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু–বাপু’ প্রদর্শনীটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি এবং তা একই সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কেরও ৫০ বছর; সর্বোপরি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষের আয়োজনের সময় শুরু হয়েছিল। এ জন্য প্রদর্শনীটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

হাইকমিশনার বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে শুধু ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক যুক্ততাই নয়, উভয় দেশের স্বাধীনতাসংগ্রামেও পরস্পরের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম ছিল জনগণের যুদ্ধ। এই সংগ্রামে দুই দেশের জনগণেরই অংশগ্রহণ ছিল। সে কারণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের ইতিহাসের গবেষণার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

হাইকমিশনার বলেন, এই প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে দুই দেশের স্বাধীনতাসংগ্রাম, ইতিহাস এবং সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়েছে; পাশাপাশি এই প্রদর্শনীর একটি বিশেষ দিক রয়েছে। মহাত্মা গান্ধীর স্ত্রী কস্তুরবা গান্ধী এবং বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের অবদানের কথা ইতিহাসে যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। এই প্রদর্শনীর একটি বিশেষ অংশে তাঁদের তুলে ধরা হয়েছে।

default-image

আলোচনা পর্বের পরে ছিল শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এরপরে দুপুর ১২টায় প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক দ্বারোদ্‌ঘাটন করা হয়। আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা প্রদর্শনী সবার জন্য খোলা থাকবে।

যা দেখা যাবে

বঙ্গবন্ধু–বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনীটি ২২টি তথ্যদেয়াল ও শতাধিক ডিজিটাল মুহূর্তের সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে। কক্ষে প্রবেশ করলে প্রথমেই চোখে পড়বে বিশাল আকারের দেয়ালজুড়ে দুই নেতার ডিজিটাল প্রিন্টের বিভিন্ন সময়ের ছবি। এটি দর্শকদের কাছে তাঁদের পরিচিতি তুলে ধরবে। প্রতিটি অংশেই বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দিতে পরিচিতি দেওয়া আছে। একটি অত্যন্ত দুর্লভ ছবি আছে প্রদর্শনীতে, বঙ্গবন্ধু এবং মহাত্মা গান্ধী ১৯৪৭ সালে কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে রয়েছেন। এক ফ্রেমে দুই নেতার এটিই একমাত্র ছবি। পরের পর্বগুলোতে রয়েছে মহাত্মা গান্ধীর ইতিহাসখ্যাত লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ। এ ছাড়া আছে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড, বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম, কস্তুরবা ও বঙ্গমাতার ছবি। সময় অনুসারে পর্যায়ক্রমে ছবিগুলো দেয়ালে সাজানো হয়েছে। এ ছাড়া ডিজিটাল পর্দায় আঙুলে স্পর্শ করে দর্শকেরা ইতিহাসের ধারাক্রম অনুসারে তথ্য, চিত্র ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিবরণ তিনটি ভাষায় জানতে পারবেন। শেষ প্রান্তে দর্শকদের জন্য রয়েছে বঙ্গবন্ধু এবং মহাত্মা গান্ধীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার ব্যবস্থা। একটি মনিটরে দুই নেতার ছবি রয়েছে। সামনে বসানো আছে ডিজিটাল ক্যামেরা। ফটো তুলতে আগ্রহীকে তাঁদের সামনে দাঁড়াতে হবে, তারপর একটি ক্লিক—ব্যস, হওয়া যাবে ইতিহাসের অংশ।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন