রাজধানী ঢাকার মিরপুরের তরুণ জি এম মো. নাহিদ (২২) হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের দুই সদস্যের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মামরকপুর গ্রামবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে। গতকাল শুক্রবার নাহিদের গ্রামের বাড়ি মামরকপুরে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকার মামরকপুর গ্রামের সড়কে গতকাল বেলা দুইটায় এক ঘণ্টার এ মানববন্ধন হয়। পরে বিক্ষোভ মিছিল করে এলাকাবাসী। মানববন্ধনে বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন নিহত নাহিদের বাবা গাজী সাইদ, বড় বোন শিলা আক্তার, গ্রামবাসী গাজী তাওলাদ, সেলিম মিয়া, মো. রায়হান প্রমুখ।
শিলা আক্তার অভিযোগ করেন, ঢাকার পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তৌহিদুল আরেফিন ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সুব্রত দাস, পুলিশের সোর্স তারেকের মাধ্যমে সাদাপোশাকে ৩ ফেব্রুয়ারি তাঁর ভাইকে ধরে নিয়ে গিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। দাবি করা টাকা না পেয়ে পুলিশের ওই সদস্যরাই নাহিদকে হত্যা করেন।
এ ব্যাপারে বাদীপক্ষের আইনজীবী আলতাফ হোসেন মোল্লা বলেন, মামলাটির ব্যাপারে আগামী সোমবার আদালত আদেশ দেবেন।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, পল্লবী থানার ওই দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ফাঁসি দিতে হবে। তা না হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
অভিযোগ অস্বীকার করে পল্লবী থানার এসআই তৌহিদুল আরেফিন বলেন, ‘আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই।’
নিহত নাহিদের গ্রামের বাড়ি মামরকপুর গ্রামে হলেও তাঁদের পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে বসবাস করে আসছিল। গুলিবিদ্ধ হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে নাহিদের লাশ পাঁচ দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পড়ে ছিল। শেষ পর্যন্ত ৮ ফেব্রুয়ারি পরিবারের সদস্যরা তাঁর লাশ শনাক্ত করেন। এরপর শিলা আক্তার গত বৃহস্পতিবার পল্লবী থানার ওই দুই পুলিশ সদস্য ও সোর্স তারেককে অভিযুক্ত করে ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি হত্যা মামলা করার আবেদন করেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন