default-image

চার বন্ধু মিলে লিবিয়া থেকে ইতালিতে যেতে চেয়েছিলেন। সেই উদ্দেশ্যে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার জন্য নৌকায় উঠেছিলেন তাঁরা। কিন্তু একসঙ্গে রওনা দিলেও চারজনের আর গন্তব্যে পৌঁছানো হয়নি। ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির পর দুজন ইতালি পৌঁছাতে পারলেও দুজন এখনো নিখোঁজ।

নিখোঁজ দুজন হলেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লোকড়া গ্রামের আবদুল কাইয়ুম ও আবদুল মোক্তাদির। আর উদ্ধার হওয়া দুজন হলেন মামুন মিয়া ও নূরুল আমিন। তাঁরা চারজনই একই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

বেঁচে যাওয়া নূরুল আমিন মুঠোফোনে পরিবারের সদস্যদের জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাঁরা চার বন্ধু মিলে ফ্রান্স যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার হিয়ালা গ্রামের এক দালাল জনপ্রতি ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে তাঁদের ইতালি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে মৌখিক চুক্তি করেন। প্রথমে ভারত হয়ে তাঁদের শ্রীলঙ্কায় নিয়ে যাওয়া হয়। শ্রীলঙ্কায় প্রায় সাড়ে চার মাস রাখার পর গত ৯ মে ইতালি পাঠানোর উদ্দেশে তাঁদের একটি নৌকায় তোলা হয়। কিন্তু প্রবল স্রোতের তোড়ে নৌকাটি ভূমধ্যসাগরে ডুবে যায়। অন্ধকারে সাঁতরে তিনি ও মামুন মিয়া কিছুক্ষণ এগোতে পারলেও অপর দুই বন্ধু আবদুল কাইয়ুম ও আবদুল মোক্তাদিরের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে উদ্ধারকর্মীদের সহযোগিতায় ইতালিতে পৌঁছান নূরুল আমিন ও মামুন মিয়া।

লোকড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাহির মিয়া জানিয়েছেন, গত রোববার তাঁর ভাগনে মামুন মিয়া মুঠোফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করেছেন। দুই বন্ধু ইতালিতে আছেন বলেও পরিবারকে জানিয়েছেন মামুন মিয়া।

নিখোঁজ হওয়া আবদুল মোক্তাদিরের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, গত ৮ মে বাবা আবদুল কাদিরকে ফোন করে ইতালির উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা জানান মোক্তাদির। ঝুঁকি নিয়ে ইতালি যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধ করলেও বাবার কথা উপেক্ষা করেই ইতালির পথে রওনা হয়েছিলেন মোক্তাদির। আরেক নিখোঁজ ব্যক্তি আবদুল কাইয়ুমের বাবা আলাউদ্দিন বলেন, তাঁর আট ছেলের মধ্যে কাইয়ুম সবার ছোট। ছেলের পীড়াপীড়িতে নয় লাখ টাকায় ছেলেকে ইতালিতে পাঠাতে রাজি হয়েছিলেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার লিবিয়ার জুয়ারা থেকে ইতালির উদ্দেশে রওনা হওয়া একটি নৌকা প্রায় ৭৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিয়ে ভূমধ্যসাগরে ডুবে যায়। রেড ক্রিসেন্টের বরাত দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, নিহত লোকজনের মধ্যে বেশির ভাগই বাংলাদেশি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0