বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত সোমবার বাড়িতে আলাপকালে রঞ্জু মণ্ডল ও ফজলু মণ্ডল জানান, দাদা আফাজ উদ্দিন মণ্ডল, বাবা আকবর মণ্ডল গ্রাম থেকে দুধেল গাভি, বকনা কিনতেন। সেগুলো বাড়িতে এনে কিছুদিন পালার পর বিক্রি করে দিতেন। এতে তাঁদের যে আয় হতো, তা দিয়ে সংসার চলত। বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রায় ৩০ বছর ধরে এ ব্যবসা করছেন রঞ্জু মণ্ডল। কয়েক বছর আগে ব্যবসা শুরু করেন ফজলু মণ্ডল। ব্যবসায় মাঝেমধ্যে ভালোই লাভ হয়। মাঝেমধ্যে অনেক টাকার লোকসানও হয়।
দুই ভাই জানান, বাড়ির উঠানেই গড়ে তুলেছেন খামার। তাতে ২০টির মতো গরু রাখা যায়। কেনাবেচার মধ্যে থাকায় সব সময় ১০-১২টি করে গরু থাকে। বিশেষ করে দুধেল গাভি খামারে বেশি থাকে।

রঞ্জু মণ্ডল ও ফজলু মণ্ডল জানান, গত এক সপ্তাহে ৭টি বড় দুধেল গাভি প্রায় ১২ লাখ টাকায় কেনেন। এর মধ্যে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকায় ৩টি বিক্রি করেছেন। বাকি ৪টি গাভি এখনো খামারে আছে। এর মধ্যে একটি গাভি ৪ মাস আগে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় কেনেন। গাভিটি প্রতিদিন ১৭ লিটার দুধ দেয়। বাছুরটি অনেক সুন্দর হওয়ায় সম্পূর্ণ দুধ খাওয়াচ্ছেন। প্রতি মাসে ৩০-৪০টি দুধেল গাভি কেনাবেচা করেন। মাঝেমধ্যে অসুস্থ হয়ে বাছুর মারা যাওয়ায় হিমশিম খেতে হয়। এর আগে গৃহস্থের টাকা দিতে বাড়ির প্রায় দুই বিঘা জমিও বিক্রি করতে হয়েছিল। মাঝেমধ্যে শখ করে এক-দুটি ষাঁড় পালেন।

ফজলু মণ্ডল বলেন, প্রায় ৮ মাস আগে জেলার বালিয়াকান্দির সোনাপুর থেকে ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকায় একটি ফিজিয়ান জাতের কালো ষাঁড় কেনেন। দেখতে অনেক সুন্দর হওয়ায় আদর করে নাম রেখেছেন ‘কালো মানিক’। ডাবলি ভুসি, গমের ভুসি, ছোলার ভুসিসহ প্রতিদিন ন্যূনতম ১ হাজার টাকার দানাদার খাবার দেন। বর্তমানে প্রায় ১১ ফুট লম্বা ষাঁড়টির ওজন ৩০ মণের বেশি। কালো মানিককে দেখতে প্রতিদিন লোকজন ভিড় করেন। গরুটির দাম হাঁকচ্ছেন ১৮ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে ১২ লাখ টাকা বাড়িতে থেকেই দাম করেছেন কয়েকজন।

রঞ্জু মণ্ডল বলেন, ‘লাভ-লোকসান মিলিয়েই ব্যবসা। ২ বছরে অন্তত ৫০ লাখ টাকার মতো লোকসান হয়েছে। কালো মানিক বিক্রি হলে অনেকটা ক্ষতি পোষাবে আমাদের। সরকারিভাবে কোনো ধরনের সাহায্য–সহযোগিতা পাচ্ছি না। খামারে কোনো গরুর চিকিৎসার প্রয়োজন হলে পশু ও প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে কাউকে ডেকে আনলে তাঁকে ২-৩ হাজার টাকা দিতে হয়। না হলে চিকিৎসা ভালোমতো করেন না। সরকারি প্রণোদনাও এখন পর্যন্ত পাইনি।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার জানামতে গোয়ালন্দের এটাই সবচেয়ে বড় ষাঁড়। এটিকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে খাওয়ানো হয়েছে। সরকারিভাবে প্রণোদনা যাতে তাঁরা পান, এ জন্য তালিকায় এবার নাম দেওয়া হয়েছে। কিছু হলে তাঁরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেন। যখন বড় ধরনের সমস্যায় পড়েন, তখন আমাদের জানান। যে কারণে তাঁদের তখন বাড়তি খরচ হয়।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন